সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা
নৌকার আদলে তৈরি দৃষ্টিনন্দন মঞ্চে শোভা পাচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:৪০ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:৪৭
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইদিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হচ্ছে দুপুরে।
'শেখ হাসিনার নেতৃত্বে/বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ/এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ'- এই স্লোগান নিয়ে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুইদিনব্যাপী এ সম্মেলনে আগামীর পথরেখা নির্ধারণ করবে টানা তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এ দলটি।
সম্মেলনে অংশ নিতে এরই মধ্যে সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব উপস্থিতির মধ্যে উদ্যানে ঢোকার পথ দিয়ে ভেতরে যাচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্দেহজনক মনে হলে শাহবাগ ও দোয়েল চত্বর দিয়ে যাতায়াতকারী জনসাধারণকে তল্লাশি করছে পুলিশ। সোহরাওয়ার্দীর প্রবেশ পথে টিএসসি সংলগ্ন নেতাকর্মীদের ভিড় বেশি। সম্মেলন ঘিরে চারপাশেই পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী বছরব্যাপী 'মুজিববর্ষে'র অনুষ্ঠানমালাকে বর্ণাঢ্য রূপ দিতে এ সম্মেলনের আয়োজন 'সাদামাটা' হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সংশ্নিষ্ট নেতারা।
তবে চলমান দুর্নীতিবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযানের লক্ষ্যপূরণে দলেও খোলনলচে পাল্টে নতুন গতি আনার আলোচনা থাকায় এ সম্মেলনই আওয়ামী লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে 'চমকের' সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলটির দুইদিনের এ সম্মেলন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। দেশবাসীর দৃষ্টিও এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিকেল ৩টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। এ সময় দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্মেলন মঞ্চের দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরাও।
উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিটের সাংস্কৃতিক পর্বে উদ্বোধনী সংগীতে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য। এই পর্বে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ছাড়াও দেশবরেণ্য শিল্পীরা গান গাইবেন। শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপা নৃত্য পরিবেশন করবেন।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। অভ্যর্থনা উপপরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিম স্বাগত বক্তব্য দেবেন। সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উত্থাপন করবেন ওবায়দুল কাদের। শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করবেন দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সন্ধ্যায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার সাত হাজার ৩৩৭ জন কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেটসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন।
বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে 'যুদ্ধাপরাধীদের দল' হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীর কাউকে ডাকা হয়নি।
পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ নেতা, খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ ১৫ হাজার বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিও সেখানে আসবেন। প্রতিবছর বিদেশি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও সামনে 'মুজিববর্ষে'র অনুষ্ঠানমালা থাকায় জাতীয় সম্মেলনে বিদেশি প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ কাউন্সিলে উপস্থিত থাকবেন।
আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বর্তমান কমিটির তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ২১ অক্টোবর। এর আগে অক্টোবরে নির্ধারিত সময়েই সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
- বিষয় :
- আওয়ামী লীগ
- সম্মেলন
