ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

রাজধানীতে ১১ দিনের বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু

রাজধানীতে ১১ দিনের বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসব শুরু
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৬:৫১ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৮:৫৭

১১ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নাট্যোৎসবের উদ্বোধন হলো। শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন সারা দেশ থেকে আগত ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা সংস্কৃতিজন। প্রধান অথিতি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম.  মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। উৎসবের আয়োজক মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়।

শুক্রবার ছুটির দিনে শিল্পকলা একাডেমির খোলা মাঠে নন্দনমঞ্চকে ঘিরে নাট্যপ্রেমীদের ভিড় জমে বিকেল থেকেই। সন্ধ্যায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। উত্তরীয় পরিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বীর মুক্তিযোদ্ধা আর অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর 'স্মরণে ৭১' শিরোনামে একটি নৃত্য পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আরও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে ৷ তারা বলেন,  অস্ত্রের যুদ্ধের বিকল্প হচ্ছে সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। এর মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পরাজিত করতে হবে।

মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু একে অন্যের সমর্থক। একটা থেকে অন্যটিকে পৃথক করা যায় না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না। তার নির্দেশে জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তির আগেই শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। দেশকে আবার পাকিস্তানের কলোনিতে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, নারী নেত্রী মুক্তিযোদ্ধা ফৌজিয়া মুসলিম, লেখক ও গবেষক  মুক্তিযোদ্ধা মফিদুল হক, নাট্যজন ম. হামিদ।

কিশোরগঞ্জ থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধা লাল মাহমুদ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে স্বরচিত পুঁথি পাঠ করেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধান  অতিথি মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এই উৎসব চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উৎসবের ১১ দিন ১৪টি নাটক প্রদর্শিত হবে শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন হলে। নাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে। প্রথম দিন প্রদর্শিত হয়েছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ঘুম নেই নাটক। আগামীকাল শনিবার রয়েছে চট্টগ্রামের উত্তরাধিকারের মৃত্যুপাখি। রোববার দৃশ্যকাব্যের বাঘ নাটকটি মঞ্চায়িত হবে। সোমবার শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রে রাইফেল ও মঙ্গলবার ঢাকা পদাতিকের কথা '৭১ ও বুনন থিয়েটারের সিক্রেট অব হিস্ট্রি নাটক প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার পুলিশ থিয়েটারের অভিশপ্ত আগস্ট, বৃহস্পতিবার সংলাপ গ্রুপ থিয়েটারের মানব সুরৎ ও প্রাঙ্গণে মোর এর কনডেমড সেল এবং শুক্রবার থিয়েটার অব আর্ট ইউনিটের কোর্ট মার্শাল ও মহাকালের শ্রাবণ ট্রাজেডি নাটক মঞ্চায়িত হবে। ১১ ডিসেম্বর বরিশালের নাট্যমের তিলক, ১২ ডিসেম্বর টিএসসির পদাতিক নাট্য সংসদের কালোরাত্রি এবং শেষদিন থিয়েটারের পায়ের আওয়াজ মঞ্চায়িত হবে।

১০ ডিসেম্বর ৯টি সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হবে। এগুলো হলো- ছায়ানট, উদীচী, কচিকাঁচার মেলা, থিয়েটার পত্রিকা, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, গ্রামীণ থিয়েটার, পিটিএ, সিরাজগঞ্জ উত্তরণ মহিলা সংস্থা ও বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস। এছাড়া এই উৎসবকে ঘিরে একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্র শিল্পী পাভেল রহমানের ছবি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী,  থিয়েটার আর্কাইভস এর ৫০বছরের নাটকের পোস্টার ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গবন্ধু বিষয়ক প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিল্পকলায়।

আরও পড়ুন

×