ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বাপা ও ক্যাপসের জরিপ

মানমাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ ঢাকায়

মানমাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ ঢাকায়
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:০০

ঢাকার প্রায় সব এলাকায় শব্দদূষণ হচ্ছে। মানমাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ হচ্ছে 'নীরব', 'আবাসিক' এবং 'মিশ্র' এলাকায়। এমনকি নীরব এলাকা ঘোষণার পরও শব্দদূষণ থামেনি সচিবালয়ের চারপাশের এলাকায়। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) সম্প্রতি এক জরিপে ঢাকার শব্দদূষণের এই চিত্র পেয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। 'তীব্র শব্দদূষণের কবলে ঢাকাবাসী' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ক্যাপস ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। এতে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গত ১৭ ডিসেম্বর সচিবালয়ের চারপাশের এলাকাকে 'নীরব' ঘোষণা করে সরকার। গবেষণা দলের প্রধান ও ক্যাপসের পরিচালক অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্বয়ংক্রিয় সাউন্ড লেভেল মিটারের সাহায্যে ১৪ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই এলাকায় জরিপ চালানো হয়। ১২টি স্থানে দিনব্যাপী ৩০০ বার উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায়, দিনের বেলায় শতভাগ সময় প্রতিটি স্থানেই প্রযোজ্য মানমাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় শব্দ হয়েছে।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, 'নীরব' এলাকায় দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা ৫০ ডেসিবেল থাকার কথা। কিন্তু জরিপে দেখা গেছে, সচিবালয় এলাকায় দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা কখনও আদর্শ মাত্রার নিচে ছিল না।

ক্যাপসের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সচিবালয়ের পশ্চিমে মসজিদের পাশের এলাকা বাদে সব জায়গায় ৭০ ভাগের বেশি সময় ধরে শব্দের মাত্রা ছিল ৭০ ডেসিবেলের (তীব্রতর) বেশি। ১২টি স্থানে সম্মিলিতভাবে ৯১ দশমিক ৯৯ ভাগ সময় ৭০ ডেসিবেলের বেশি মাত্রার শব্দ হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্থানে সর্বোচ্চ সময় ধরে ছিল শব্দদূষণ। সেগুলো হলো- পল্টন বাসস্ট্যান্ডে ১০০ ভাগ সময়, জিরো পয়েন্টে ৯৯ দশমিক ৪ ভাগ সময় এবং কদম ফোয়ারায় ৯৯ দশমিক ২ ভাগ সময়। এই তিনটি জায়গায় নিয়মিতভাবে শব্দের মাত্রা ছিল ৭০ ডেসিবেলের বেশি।

ঢাকার ৭০টি এলাকায় চালানো জরিপে দেখা যায়, 'নীরব', 'আবাসিক' ও 'মিশ্র' এলাকার ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ১০০ ভাগ সময় আদর্শ মানের ওপরে ছিল। বাণিজ্যিক এলাকায় ৯৭ দশমিক ৫৮ ভাগ সময় ধরে আদর্শ মানের (৭০ ডেসিবেল) চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ হয়েছে। শিল্প এলাকায় ৭১ দশমিক ৭৫ ভাগ সময় ধরে শব্দের মাত্রা আদর্শ মানের (৭৫ ডেসিবেল) চেয়ে বেশি ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার নির্বাহী সহসভাপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, সচেতনতা তৈরি করতে না পারলে শুধু আইন করে প্রতিকার মিলবে না। অনেক সরকারি কর্মকর্তা একই গাড়িতে তিন রকমের হর্ন ব্যবহার করেন। তারাই যখন আইনের তোয়াক্কা করেন না, সাধারণ বাস-ট্রাকচালকদের ক্ষেত্রে আইন মানার প্রত্যাশা করা যায় না। শব্দদূষণ বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে সমাজের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য স্থপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী বলেন, এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ গবেষণা যেন সব বিশ্ববিদ্যালয় চালিয়ে যায়। দেশের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাপার সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।

বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের মধ্য দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের মানসিকতায় পরিবর্তন জরুরি।

আরও পড়ুন

×