করোনায় কানাডার দিনকাল
ড. খান রুবায়েত রহমান
ড. খান রুবায়েত রহমান
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২০ | ১০:০৯
বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। ২৭ জানুয়ারি প্রথম করেনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয় কানাডার টরন্টো সিটিতে। ৩০ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা (আটলান্টিক টাইম) পর্যন্ত কানাডায় ৭ হাজার ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ৪৬৬ জন সুস্থ হয়েছেন। আমরা বসবাস করছি কানাডার নোভা স্কশিয়া অঙ্গরাজ্যে। এখন পর্যন্ত এ অঙ্গরাজ্যে কেউ করোনায় মৃত্যুবরণ করেননি। কিন্তু ৩০ মার্চ পর্যন্ত এখানে ১২৭ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
নোভা স্কশিয়া অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ বয়স ৬৫ বছরের বেশি। এখানকার জনগণ স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তরা বিষয়ে উদ্বিগ্ন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং আক্রাসর রক্ষার্থে নোভা স্কশিয়া অঙ্গরাজ্য সরকার ২২ মার্চ সমগ্র অঙ্গরাজ্যব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করে। এই জরুরী অবস্থা ৫ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। এর পরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে এই জরুরি অবস্থা পুনরায় ১৪ দিনের জন্য বাড়ানো হতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই জরুরি অবস্থা কী? কিভাবে এটি করোন সংক্রমণ বিস্তারে প্রশমিত করবে।
প্রথমত: নোভা স্কশিয়ার সকল সীমান্তে সাধারণ ভ্রমণের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কানাডার অভ্যন্তরীণ অঙ্গরাজ্যেসমূহের মধ্যে প্রথম উদ্যোগ। এই পরিস্থিতিতে এই অবস্থা থেকে শুধুমাত্র জরুরি খাদ্য/ওষুধ ও নিত্যপণ্য পরিবহনের ট্রাক, সুস্থ মানুষ যারা স্বাস্থ্যখাতে কাজের জন্য নিয়োজিত, এবং অসুস্থ রোগী (বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য আসবে-ক্যান্সার/হৃদরোগ) যাদের এপয়েন্টমেন্টন পূর্বে নির্ধারিত আছে শুধুমাত্র তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।
দ্বিতীয়: অঙ্গরাজ্যের সমস্ত পার্ক, সৈকত এবং পর্যটক প্রধান অঞ্চলগুলোকে সামাজকি দূরত্ব গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। পুলিশ এই সব ক্ষেত্রে তদারকি করবে এবং ৫ জনের বেশি জটলা হলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
তৃতীয়: বাসা/অ্যাপার্টমেন্টের মালিক তাদের ভাড়া দেওয়া বাসা বা দোকানের তালা পরিবর্তন করতে পারবেন না এবং কেউ ভাড়া পরিশোধ না করতে পারলে তাদের উৎখাত করতে পারবেন না।
চতুর্থ: কিছু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যেমন-স্বাস্থ্য ক্লিনিক, খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানসমূহ, নির্মাণসামগ্রীর দোকান প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের জন্য সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমুহকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
সর্বপরি আমরা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অঙ্গরাজ্যের প্রিমিয়ার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যেকদিন বিকেল ৪টায় জানতে পারছি। একইসঙ্গে পরবর্তী দিক নির্দেশনা সাথে সাথেই জানতে পারছি। উপরন্ত প্রত্যেকদিন দুপুর ১২টা ১ মিনিটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে হালনাগাদ তথ্য এবং পরবর্তী দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।
বাংলাদেশের ঘনবসতি এবং জন সচেতনতা একটা বড় প্রভাব ফেলতে পারে করোনা সংক্রমণে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঠিক নির্দেশনা এবং হালনাগাদ উপাত্ত জনসাধারণকে অবহতি করা। জানসাধারণ সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে আশা করা যায়- করোনাভাইরাসের ভয়াল ছোবল থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা যাবে।
লেখক: সহকারি অধ্যাপক, সেন্ট ম্যারিস ইউনিভার্সিটি, হ্যালিফেপ, নোভা স্কশিয়া, কানাডা
- বিষয় :
- করোনাভাইরাস
- কানাডা
- ড. খান রুবায়েত রহমান
