ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এক্সপ্লেইনার

চীন কীভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুবিওর নাম বদলে দিয়েছিল

চীন কীভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম বদলে দিয়েছিল
×

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: এএফপি

আলজাজিরা ও এএফপি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ১৫:৪৮ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ | ১৫:৫৯

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীন সফর করেছেন। তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশ হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, নিষেধাজ্ঞার পরও রুবিও কীভাবে চীনে প্রবেশ করলেন।

এটি সম্ভব হয়েছে চীনের একটি ভাষাগত কৌশল ও কূটনৈতিক প্রোটোকলের বদৌলতে। মার্কিন সিনেটের সদস্য থাকার সময় চীন রুবিওর ওপর দুই দফায় নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে ট্রাম্পের সফরের সময় খোদ বেইজিংই রুবিওর নামের বানানে পরিবর্তন আনে।

বেইজিং থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশার জানান, ‘চীন অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এটি সম্পন্ন করেছে। এই সফরের জন্য সরকারি নথিপত্রে রুবিওর নামের বানান ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রবেশের অনুমতি দিতে চীন সরকার একটি কূটনৈতিক ‘ওয়ার্কঅ্যারাউন্ড’ বা বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। তারা রুবিও বানানের প্রথম অংশ ‘রু’-এর পরিবর্তে চীনা অক্ষর ‘লু’ ব্যবহার করে। এই পরিবর্তনের ফলে পুরো নাম দাঁড়ায়- ‘মার্কো লু’। এর মাধ্যমে বেইজিং নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই রুবিওকে চীনে প্রবেশের সুযোগ দেয়। এতে কাগজে-কলমে লিপিবদ্ধ হয়, মার্কো রুবিও নন চীনে প্রবেশ করেছেন মার্কো লু।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে। ছবি: এএফপি

গত বছরের জানুয়ারিতে মার্কো রুবিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এর ঠিক আগে থেকেই চীন সরকার ও দেশটির গণমাধ্যমগুলোতে রুবিওকে ‘মার্কো লু’ বলে প্রচার শুরু হয়। গত মার্চ মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছিল, রুবিও যদি ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফর করেন তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে ইচ্ছুক।

কেন রুবিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা?
২০১৯ সালে মার্কিন সিনেটে ফ্লোরিডার প্রতিনিধি ছিলেন রুবিও। তখন তিনি হংকংয়ের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণের নিন্দা জানান। বিশেষ করে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে চীনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকার প্রতিবাদ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেইজিং দুই দফায় রুবিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

কিউবান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত রুবিও বরাবরই কমিউনিজমের (সাম্যবাদ) ঘোর বিরোধী। তিনি উত্তর-পশ্চিম চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল জিনজিয়াংয়ে মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনেরও সমালোচনা করেন। 

সিনেটর থাকাকালে ‘উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট’-এর অন্যতম প্রধান প্রস্তাবক ছিলেন রুবিও। ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেস এই আইনের অনুমোদন দেয়। আইনটির ফলে, জিনজিয়াং থেকে কোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় আমদানিকারকদের প্রমাণ দিতে হয় যে, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করা হয়নি।

আরও পড়ুন

×