ট্রাম্পের সতর্কতার পরও নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র বলছে তাইওয়ান
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। ফাইল ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ১৩:২০ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১৩:২১
তাইওয়ান যাতে নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ঘোষণা না করে সে বিষয়ে অঞ্চলটির নেতাদের সতর্ক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর চীন সফর শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাইপে বলেছে, তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানকে সমর্থন না দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
শনিবার তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তাইওয়ান ‘একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীনস্থ নয়।’
চীন দ্বীপটিকে নিজেদের বলে দাবি করলেও সেখানে পৃথক শাসনব্যবস্থা ও সরকার আছে। তাইওয়ান নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অংশ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বেইজিং সফরে থাকার সময় শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন যদি তাইওয়ান নিয়ে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত বাঁধবে। এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে স্বাধীনতার দাবি না করতে সতর্ক করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি চাচ্ছি না কেউ হুট করে স্বাধীন হয়ে যাক। আপনারা তো জানেনই, একটি যুদ্ধ করতে আমাদের সাড়ে ৯ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তেমন কিছু চাচ্ছি না।’
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি চাই তারা (তাইপে) শান্ত হোক, বেইজিংও শান্ত থাকুক। আমরা কোনো যুদ্ধ জড়াতে চাচ্ছি না। পরিস্থিতি এখন যেভাবে আছে, সেভাবে বজায় রাখলে আমার মনে হয় চীনও তা মেনে নেবে।’
তবে তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে কেবল বেইজিংকেই স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। তবে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতাও করেনি।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে তাদের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য। তবে চীনের আক্রমণের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরাসরি তাইওয়ানের সহায়তায় এগিয়ে যাবে কি না সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে সবসময়ই একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখা হয়েছে।
তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে মনে করেন, দ্বীপটি ইতোমধ্যেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, তাই নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
আরো পড়ুন: তাইওয়ান কীভাবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধের কেন্দ্র হলো
