ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সাভারে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাও  

সাভারে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাও  
×

সাভারে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ছবি: সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার  

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৮:০১ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৮:০৩

ঢাকার সাভারে প্রতিদিনের দুর্ভোগের অপর নাম গ্যাস সংকট। পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাসসংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। সাভার পৌর এলাকার অনেক স্থানে দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। রাতে কিছুটা পাওয়া গেলেও তার পরিমাণ খুবই কম। আবাসিক এলাকায় এমন গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের দাবিতে আজ রোববার দুপুরে বাসা বাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে সাভারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আঞ্চলিক অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এসময় সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী ও পুরুষসহ কয়েকশ গ্রাহক গ্যাস অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এসময় অভিযোগ করেন, গত দুই মাস ধরে তারা বাসা বাড়িতে গ্যাস পাচ্ছে না। যার ফলে রান্নাবান্না করতে না পারায় বেশিরভাগ সময় হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। অনেকেই লাকড়ির চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও ইলেকট্রিক চুলা দিয়ে বিকল্প হিসেবে চালিয়ে নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক রাকিব আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ১ বছর ধরে আমাদের গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে গ্যাস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও আমরা নিয়মিত গ্যাস বিল দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু বিল পরিশোধ করার পরও গ্যাস না পাওয়ায় আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা এই দুর্দশা থেকে মুক্তি চাই। গ্যাস দিতে না পারলে কর্তৃপক্ষ আমাদের গ্যাস বন্ধ করে দিক। আমরা বিল দিবো কিন্তু গ্যাস পাবো না; সেটা হবে না। 

পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, রাত ১২টায় গ্যাস আসে ভোর ৬টায় চলে যায়। এজন্য আমাদের মা-বোনেরা রাতে ঘুম বাদ দিয়ে ২টার সময় উঠে রান্না করছে। কিন্তু আজ দুই মাস হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১ ঘণ্টাও গ্যাস থাকে না। বার বার জানানোর পর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারা গ্যাস দিতে না পারলে আমাদের বলে দিক, প্রয়োজনে আমরা সিলিন্ডার ব্যবহার করবো। কিন্তু প্রতি মাসে বিল নিবেন কিন্তু গ্যাস দিবেন না এটাতো হতে পারে না। অবিলম্বে আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

কাজী মোকমাপাড়া এলাকার গৃহিণী পারভিন আক্তার বলেন, আজকে ৩ মাস ধরে চুলা এক মিনিটের জন্যও জ্বলে না। অথচ আশপাশে নতুন নতুন বিল্ডিং হচ্ছে, প্রতিটি বাড়িতে অবৈধ গ্যাস জ্বলছে, তাদেরতো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমরা নিয়মিত বিল দিয়েও কেন গ্যাস পাব না। তাই, অবিলম্বে প্রতিটি বাড়িতে দেওয়া অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ এসব চোরাই গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বৈধ গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া যতদিন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যাবে ততোদিন গ্যাস বিল বন্ধ রাখারও দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। 

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (গাজীপুর) ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় গ্রাহকরা তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তাদের সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়রি দেন গ্রাহকরা। 

জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (গাজীপুর) ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আমরা আপাদের সমস্যার কথা জানলাম এবং বিষয়টি আমলে নিয়ে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
তিন দিনের আল্টিমেটামের বিষয়ে তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে না, আরও কিছু সময় লাগতে পারে। তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করবো।

আরও পড়ুন

×