ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চিকুনগুনিয়া ব্যথা কমাবেন যেভাবে

চিকুনগুনিয়া  ব্যথা কমাবেন যেভাবে
×

ডা. মোহাম্মদ আলী

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাংলাদেশে চলতি বছর চিকুনগুনিয়া রোগের প্রভাবও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর তীব্রতা মোকাবিলা করা জরুরি। 

চিকুনগুনিয়া কী?
চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। এই রোগের প্রধান লক্ষণ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর এবং সেই সঙ্গে তীব্র গিটে (জয়েন্ট) ও মাংসপেশির ব্যথা। অনেক সময় জ্বরের চেয়েও এই ব্যথা রোগীকে বেশি দুর্বল করে ফেলে। হাঁটু, গোড়ালি, কবজি ও অন্যান্য অস্থিসন্ধির ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে রোগী হাঁটতে বা নড়াচড়া করতেও অক্ষম হয়ে পড়েন। 
যাদের আগে থেকেই বাত (আর্থ্রাইটিস), কোমর বা ঘাড়ের ব্যথার মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আছে, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাদের সেই ব্যথা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে, যা চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এই বিভ্রান্তি এড়াতে রোগ নিশ্চিত করতে চিকুনগুনিয়া অ্যান্টিজেন, আইজিএম ও আইজিজি অ্যান্টিবডির রক্ত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ও প্রতিকার
চিকুনগুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই। এর চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক। 
সাধারণ ব্যথার ওষুধে এই রোগের ব্যথা সাধারণত কমে না। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল কম, তবে চিকুনগুনিয়ার ব্যথায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ প্রদাহবিরোধী অন্যান্য ওষুধ, যেমন ন্যাপ্রোক্সেন বা ডাইক্লোফেনাকের চেয়ে ভালো বা সমতুল্য কাজ করে। পাশাপাশি, প্রচুর পরিমাণে তরল পানীয় যেমন খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, সাধারণ পানি ও ফলের জুস গ্রহণ করা পেশির সংকোচন কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতেও সাহায্য করে।

ফিজিওথেরাপির ভূমিকা
চিকুনগুনিয়ার ব্যথায় ফিজিওথেরাপি বেশ ধীরে কাজ করে। এক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোথেরাপি ব্যবহার করে ব্যথা কমানো যেতে পারে। তবে, সংক্রমণের সক্রিয় অবস্থায় কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন বা হাই ইনটেনসিটি এক্সারসাইজ করা উচিত নয়। এই রোগে শরীরে উচ্চমাত্রার প্রদাহ থাকায় এ ধরনের অনুশীলন ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ অবস্থায় বরফের সেক দারুণ কাজ করে। রোগীর সংবেদনশীলতা অনুযায়ী বরফ প্রয়োগ করতে হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে হালকা গরম সেকও কার্যকর হতে পারে, যা নির্ভর করে রোগীর ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা ও উষ্ণতা গ্রহণের মাত্রার ওপর। ইনফ্লামেশনের মাত্রা কমে যাওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সে অনুযায়ী রিহ্যাবিলিটেশন পরিকল্পনা সাজানো উচিত। সঠিক ফিজিওথেরাপি পরিকল্পনা ব্যথা থেকে মুক্তি ও স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। 

[বিভাগীয় প্রধান, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা] 

আরও পড়ুন

×