ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অটিজম কী ধরনের সমস্যা, কেন হয়

অটিজম কী ধরনের সমস্যা, কেন হয়
×

 বিলকিস বেগম চৌধুরী 

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

অটিজম হলো মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর বিকাশজনিত অসুস্থতা। শিশু এই সমস্যা নিয়ে মাতৃজঠর থেকে এই ধরণীতে আগমন করে। জন্মের পর আপাতদৃষ্টিতে এইসব শিশুকে সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হতে পারে। পরে ধীরে ধীরে অটিজমের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। সাধারণত ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর শরীর ও আচরণে অটিজমের সব লক্ষণ প্রকাশিত হয়।  

অটিজম-এর লক্ষণ
জন্মের পর থেকে শিশুর শরীর ও মনের বিকাশ শুরু হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ধাপে ধাপে অর্জিত হয়। বয়স অনুযায়ী শিশুর যথাযথ বিকাশ-চিহ্নকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘শিশু বিকাশের মাইলস্টোন’ বলা হয়। যেমন একটি স্বাভাবিক শিশু সাধারণত চার মাস বয়সে চারপাশের মানুষের মুখ চিনতে পারে, ছয় মাসে নিজের নাম বুঝতে পারে এবং কেউ ডাকলে সাড়া দেয়। একটি স্বাভাবিক শিশু ৯ মাসে পরিপূর্ণ শব্দ যেমন ‘বাবা’, ‘মামা’, ‘দাদা’ ইত্যাদি বলতে পারে। এক বছরের একটি সুস্থ শিশু কিছু ধরে দাঁড়াতে পারে। অটিস্টিক শিশুর ক্ষেত্রে এরকম দেখা যাবে না।
অটিস্টিক শিশুর প্রতিটি মাইলস্টোন দেরিতে দেখা যাবে। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো আংশিক বা অসম্পূর্ণ থাকবে। শিশুটি কিছু কথা বললেও সেগুলো এলোমেলো অথবা  অর্থহীন হবে। সে চোখের দিকে তাকিয়ে সাড়া দিতে অপারগ (eye to eye contact) হয়। এ ধরনের শিশু কাজে অমনোযোগী হয়। অনেকে আবার একই কাজ বারবার করতে থাকে। অনেক অটিস্টিক শিশু ছটফটে বা অস্থির হয়। তারা কোনো একস্থানে বেশিক্ষণ স্থির হয়ে থাকতে পারে না। এ ছাড়াও আরও উপসর্গ ও লক্ষণ অটিজমের প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে প্রকাশিত হয়।

অটিজমের কারণ 
অটিজমের কোনো একটি সুনির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত  খুজে পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু বিষয় অটিজমের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়। জিনগত অথবা পরিবেশগত সমস্যার কারণে অটিস্টিক শিশুর জন্ম হতে পারে। জিনগত ক্ষেত্রে বংশ পরম্পরায় অটিজমের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। মা-বাবা উভয়ের বেশি বয়সের সন্তানের অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
 গর্ভকালীন মা বিশেষ কিছু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে শিশুর অটিজমের আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়। কিছু বিশেষ ওষুধ সেবন, ভেজাল বা দূষণযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, এমনকি বিষাক্ত বা দূষিত বাতাসে অবস্থানের জন্য শিশু অটিজমে আক্রান্ত হতে পারে। অদক্ষ হাতে বাড়িতে প্রসবের সময় বাচ্চা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হলে পরে শিশুর মস্তিষ্ক-বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া পরিপূর্ণ সময়ের আগে (৩৮ সপ্তাহের আগে) জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে অটিজমের ঝুঁকি বেশি থাকে। 

প্রতিরোধের জন্য করণীয় 
lগর্ভধারণের আগে দম্পতিকে গর্ভ-প্রস্তুতির (Pre-Pregnancy Councelling) জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। দম্পতির কারও কোনো সমস্যা থাকলে সেটির সমাধান আগে করতে হবে। যেমন অনেক মায়ের থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা থাকে, যা গর্ভস্থ শিশুর বুদ্ধিমত্তার বিকাশে প্রভাব ফেলে। চিকিৎসার মাধ্যমে দ্রুত এ-রকম সমস্যার সমাধান সম্ভব। 
l মা-বাবার বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাবা অথবা মা উভয়ের বয়স যত বেশি হবে সন্তানের অটিস্টিক হওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে। সেজন্য ইচ্ছুক দম্পতিকে তরুণ বয়সে সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া

হয়।
l গর্ভকালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের সংস্পর্শে থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ খাওয়া যাবে না। কোনো ধরনের অসুখ সেটি সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা করা যাবে না। তার কারণ বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। 
l প্রসব-পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। এক্ষেত্রে স্বামীসহ পরিবারের অন্য জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গকে যুক্ত করা দরকার। মনে রাখতে হবে যেকোনো বিবেচনায় প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি হচ্ছে সর্বোত্তম।
[প্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল]
 

আরও পড়ুন

×