ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৫১ মিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং পেলো ‌‘ফ্যাসেট’

৫১ মিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং পেলো ‌‘ফ্যাসেট’
×

মোহাম্মদ রাফি হোসেন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ২০:৫৬

লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক শরিয়াহসম্মত ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্যাসেট’ ৫১ মিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ পেয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রাফি হোসেনের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি এই অর্থ ব্যবহার করবে তাদের স্টেবলকয়েনচালিত ব্যাংকিং ও পেমেন্ট অবকাঠামো সম্প্রসারণে।

প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিজ বি বিনিয়োগ পর্বে অর্থ দিয়েছে জাপানের এসবিআই গ্রুপ, বাহরাইনভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টক্রপ এবং তুরস্কের রি-পাই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।

বিশ্বজুড়ে ব্লকচেইনভিত্তিক আর্থিক সেবার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রচলিত ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের পরিবর্তে স্টেবলকয়েন ও ব্লকচেইন অবকাঠামো ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে দ্রুত ও কম খরচে অর্থ লেনদেনের সুবিধা দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফ্যাসেট এখন সেই ধারার অন্যতম আলোচিত নাম।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৫০টির বেশি করিডোরে পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করছে। গত বছর তাদের প্ল্যাটফর্মে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্বের এক হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফ্যাসেটের সেবা ব্যবহার করছে। 

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্টব্যবস্থা এখনো তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও ধীর। বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অর্থ আনতে ফ্রিল্যান্সার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়তে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লকচেইনভিত্তিক অবকাঠামো এই খরচ ও সময় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্যাসেট জানিয়েছে, নতুন বিনিয়োগের অর্থ দিয়ে তারা নিজেদের ‘ওন নেটওয়ার্ক’ অবকাঠামো সম্প্রসারণ করবে। পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণ ও বাণিজ্য অর্থায়নসেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেবলকয়েন ইউএসডিটি নির্মাতা টিথার লিমিটেডের সঙ্গে অংশীদারত্বে ফ্যাসেট একটি গোল্ড-ব্যাকড নিওব্যাংকিং কার্ড চালু করেছে।

ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী রাফি হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‌‘আমরা এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তথ্যের মতো অর্থও সহজে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারবে। নতুন এই বিনিয়োগ আমাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।’

মোহাম্মদ রাফি হোসেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে পড়াশোনা করেছেন। পড়াশোনা শেষে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে। সাবেক আরব আমিরাত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

সরকারি কিংবা বেসরকারি খাত, দুই জায়গাতেই রাফি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন- উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মেধার কোনো অভাব নেই। কিন্তু সেই মেধাকে কাজে লাগানোর জন্য যে আর্থিক ব্যবস্থা দরকার, সেটা এখনো মজবুত নয়। সেই ব্যবস্থায় লেনদেনের খরচ বেশি, গতি কম, আর বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ খুবই দুর্বল। 

আরও পড়ুন

×