শেয়ার বাজার
কারিগরি ত্রুটিতে ডিএসইতে লেনদেন হয়নি তিন ঘণ্টা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২২ | ২৩:১০
এক দিনে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা শেয়ার লেনদেন হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে মাত্র এক ঘণ্টা ৪৮ মিনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হয়নি ২ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। অন্যান্য দিনের মতো সকাল সাড়ে ৯টায় নিয়মিত লেনদেন শুরুর পর এক ঘণ্টা ২৮ মিনিট পর লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এর পর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে চলেছে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। তবে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে স্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যায়িত করে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এর কারণ উদ্ঘাটনে সংস্থাটির পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসানকে প্রধান করে গতকালই ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে বিএসইসি ছাড়াও, ডিএসই, সেন্ট্রাল ডিপোজটরি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএল এবং লেনদেন নিষ্পত্তিকারী প্রতিষ্ঠান সিসিবিএলের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশে বিএসইসি বলেছে, ডিএসই নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন ব্যবস্থা চালু রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
এদিকে ডিএসই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ায় সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, কারিগরি ত্রুটির জন্য হঠাৎ লেনদেন বন্ধ হয়। এর পর লেনদেন ব্যবস্থায় সফটওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক দলের সহায়তা নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তি দল ফের লেনদেন শুরু করে।
কারিগরি ত্রুটির কারণে ডিএসইতে লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা প্রথম নয়। গত বছরের ১৮ জুলাই লেনদেনের মাঝে কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেন বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে ডিএসইতে। ওইদিন সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর ১ ঘণ্টা ৯ মিনিট পর বেলা ১১টা ৯ মিনিটে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি সারিয়ে ওইদিন ফের লেনদেন শুরু হয় বেলা ১টায়। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নতুন কোনো শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে কারিগরি ত্রুটিতে লেনদেন ধীর গতি হওয়ার বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল নিয়মিত।
ডিএসইর এক কর্মকর্তা জানান, ডিএসইর শেয়ার লেনদেনের প্ল্যাটফর্মের দুইটি অংশ। একটি দিয়ে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস থেকে লেনদেন আদেশ গ্রহণ হয়। এর পর অপর অংশ ওই আদেশ থেকে শেয়ারদর চিহ্নিত করে 'ম্যাচিং' করে লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ সংক্রান্ত সফটওয়্যার সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ নাসডাক। এ সফটওয়্যারে সমস্যার কারণে লেনদেন হয়নি। পরে এ প্রতিষ্ঠানটির জরুরি সহায়তাকারী দলের সহায়তায় কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে লেনদেন শুরু হয়। তবে অপর একটি সূত্রের দাবি, সফটওয়্যার সংক্রান্ত ত্রুটি সারাতে এত সময় লাগার কথা নয়। এ ধরনের সমস্যা ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু হার্ডওয়্যারের সমস্যা হলে এ ত্রুটি সারাতে সময় লাগে। সোমবার লেনদেন বন্ধের পর ত্রুটি সারাতে ৩ ঘণ্টার মতো লেগেছে। এটা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি সময়।
এদিকে লেনদেন শুরুর পর কিছু শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, লেনদেন বন্ধ হওয়ার আগে কোনো একটি কোম্পানির ১৬ লাখ শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। কিন্তু যখন লেনদেন শুরু হয় তখন দেখা যায়, ওই কোম্পানির ৩২ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ চিত্র বেশ কিছু শেয়ারে দেখা গেছে। তবে এমনটি হওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন ডিএসইর কর্মকর্তারা।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৮৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১৫টির কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১৮টির, কমেছে ৮২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১৫টির দর। যদিও লেনদেন বন্ধ হওয়ার আগে সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে আসা ৩০৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৫টি দর বেড়ে কেনাবেচা হয়। ক্লোজিং প্রাইস অনুযায়ী, ডিএসইতে ফ্লোর প্রাইসে নেমে আসা শেয়ার ও ফান্ডের সংখ্যা বেড়ে ২৮৯টিতে উন্নীত হয়েছে, যা রোববারের তুলনায় ১০টি বেশি। লেনদেন শেষে প্রধান সূচক ৩৬ পয়েন্ট হারিয়ে সূচকটি নেমেছে ৬৩০৭ পয়েন্টে। লেনদেন বন্ধ হওয়ার আগে ডিএসইতে ২২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ৩৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়।
- বিষয় :
- ডিএসই
- কারিগরি ত্রুটি
