ঈদের আগে বড় ধাক্কা এসএমই খাতে
×
শেখ আবদুল্লাহ
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০০
বুড়িগঙ্গার তীরে কামরাঙ্গীচরের আশ্রাফাবাদ মাদ্রাসাপাড়ায় একটি জুতার কারখানা আছে আশরাফ উদ্দিনের। এই কারখানায় তিনি প্রধানত ব্র্যান্ড বাটার জন্য জুতা তৈরি করেন। গত ২৩ মার্চ বাটা থেকে ই-মেইলে দেড় কোটি টাকার অর্ডার বাতিল করা হয়। তিনি মূলত ঈদ উপলক্ষে জুতা বানাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে কারখানার কাজ হারিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন আশরাফ উদ্দিন। একই অবস্থা পোশক ও কারুপণ্য প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান টি গাও কারুশিল্পের মালিক জগদীশ চন্দ্র রায়েরও। ঈদ উপলক্ষে বানানো পোশাক বিক্রি করতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে সাভার ও ঠাকুরগাঁওয়ের দুটি কারখানায়। অনেকে অর্ডার করে রাখলেও এখন আর সেগুলো নিতে চাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মীদের বেতন ও ঈদের বোনাস দেওয়াও এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিতে শুধু আশরাফ উদ্দিন ও টি গাও কারুশিল্পেরই নয়, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে যেসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) বড় প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহ করেন তাদের সবারই অবস্থা একই। এমনকি যারা পণ্য তৈরি করে নিজেরাই বিক্রি করেন, আমদানি করে বিক্রি করেন তারাসহ দেশের সব পোশাক-পরিচ্ছদ বিক্রেতার একই অবস্থা। টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন এসব ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্পগুলো তাদের পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। অনেকের বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। একই কারণে এ ধরনের ছোট ছোট সেবা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের কয়েক লাখ ছোট উদ্যোক্তা টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন। পাশাপাশি বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক লাখ কর্মী। আসন্ন ঈদে কোনোভাবে বেতন দিলেও বোনাস দিতে পারবে না অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বেতনও ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারবে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেকগুলো খাত বাড়তি গতি পায়। রোজা শুরুর আগে থেকেই এই গতিশীলতা শুরু হয়। চলে ঈদের পরেও। এ সময়ে পোশাক-পরিচ্ছদ, ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। এ ছাড়া গৃহস্থালি পণ্য, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যায়। এসব পণ্যে কোম্পানিগুলো ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের ছাড় দেয়। ক্রেতারা ঈদের সময় বাড়তি আয়ে এসব পণ্য কেনেন। ফলে এসব পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে থাকে চাঞ্চল্য। এবার করোনাভাইরাসের কারণে সেই চাঞ্চল্য নেই। যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই, তবু বলা হয়ে থাকে ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত লেনদেন হয়। এ বছর এর কতটা হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ৩০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসাই আটকে গেছে।
পুরো রমজানজুড়ে চলে ইফতার পার্টি। এসব পার্টিতে খাবার সরবরাহের পাশাপাশি মঞ্চ বা অনুষ্ঠানস্থল সাজানোর কাজ করা প্রতিষ্ঠান, ডেকোরেটর, সাউন্ড সিস্টেম প্রতিষ্ঠানের কাজ বেড়ে যায়। এবার তার কিছুই হচ্ছে না। ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জিন্দার এ বিষয়ে বলেন, অন্যান্য বছর রমজানে দম ফেলার সময় থাকে না। এ বছর ঘরে আটকা আছি। ঈদের আগে সাজগোজের অন্যান্য পণ্য বিশেষ করে ইমিটেশনের গহনা, কসমেটিকসের চাহিদা বাড়ে। বিউটি পার্লারেও ভিড় বেড়ে যায়। স্বর্ণের বাজারেও চাহিদা বাড়ে। সব মানুষের ছুটির সুবাদে ঈদের সময় দেশে বিয়ের আয়োজন বাড়ে। ফলে বিয়েতে প্রয়োজন এমনসব পণ্যের বাজারও চাঙ্গা হয়। এমনকি ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পোস্টার ছাপিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এতে ব্যস্ত থাকে প্রিন্টিং প্রেস। রোজার মধ্যেই দেশের ধনী বা সামর্থ্যবান মানুষ যাকাত দেন। অনেকেই যাকাত হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি দিয়ে থাকেন। ফলে এ ধরনের পণ্যের বাজার চাঙ্গা হয়। ঈদের ছুটিতে অনেকে বেড়াতে যান, ফলে পর্যটন খাতেও থাকে ব্যস্ততা। কিন্তু এ বছর এসবই বন্ধ রয়েছে। এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া ঋণের বোঝা বড় হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের পাওনা আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর এখন টিকে থাকাই দায়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সভাপতি মো. হেলালউদ্দিন বলেন, একজন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে দেশে ৫৬ লাখ উদ্যোক্তা ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যাদের বড় অংশের ব্যবসার সঙ্গে ঈদের বেচাকেনার সম্পর্ক রয়েছে। ঈদের বেচাকেনা না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান চলতে পারবে না। কারণ ঈদের বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন ঋণ শোধ করা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তিনি এই ধরনের ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের কাছে আলাদা করে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসার পুরোটাই এবার লোকসানে পড়েছে। উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ নেই। যতটুকু আছে সেখানেও ক্রেতার কেনার আগ্রহ কম। অধিকাংশই এখন অতিরিক্ত ব্যয় করার চেয়ে সঞ্চয় ধরে রাখার কথা ভাবছে। আবার অনেকের কেনার ক্ষমতা কমেছে। ফলে ছোট, মাঝারি ব্যবসায়ীরা এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে অনলাইনে কেনাকাটা ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেকগুলো খাত বাড়তি গতি পায়। রোজা শুরুর আগে থেকেই এই গতিশীলতা শুরু হয়। চলে ঈদের পরেও। এ সময়ে পোশাক-পরিচ্ছদ, ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। এ ছাড়া গৃহস্থালি পণ্য, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যায়। এসব পণ্যে কোম্পানিগুলো ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের ছাড় দেয়। ক্রেতারা ঈদের সময় বাড়তি আয়ে এসব পণ্য কেনেন। ফলে এসব পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে থাকে চাঞ্চল্য। এবার করোনাভাইরাসের কারণে সেই চাঞ্চল্য নেই। যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই, তবু বলা হয়ে থাকে ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত লেনদেন হয়। এ বছর এর কতটা হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ৩০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসাই আটকে গেছে।
পুরো রমজানজুড়ে চলে ইফতার পার্টি। এসব পার্টিতে খাবার সরবরাহের পাশাপাশি মঞ্চ বা অনুষ্ঠানস্থল সাজানোর কাজ করা প্রতিষ্ঠান, ডেকোরেটর, সাউন্ড সিস্টেম প্রতিষ্ঠানের কাজ বেড়ে যায়। এবার তার কিছুই হচ্ছে না। ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জিন্দার এ বিষয়ে বলেন, অন্যান্য বছর রমজানে দম ফেলার সময় থাকে না। এ বছর ঘরে আটকা আছি। ঈদের আগে সাজগোজের অন্যান্য পণ্য বিশেষ করে ইমিটেশনের গহনা, কসমেটিকসের চাহিদা বাড়ে। বিউটি পার্লারেও ভিড় বেড়ে যায়। স্বর্ণের বাজারেও চাহিদা বাড়ে। সব মানুষের ছুটির সুবাদে ঈদের সময় দেশে বিয়ের আয়োজন বাড়ে। ফলে বিয়েতে প্রয়োজন এমনসব পণ্যের বাজারও চাঙ্গা হয়। এমনকি ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পোস্টার ছাপিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এতে ব্যস্ত থাকে প্রিন্টিং প্রেস। রোজার মধ্যেই দেশের ধনী বা সামর্থ্যবান মানুষ যাকাত দেন। অনেকেই যাকাত হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি দিয়ে থাকেন। ফলে এ ধরনের পণ্যের বাজার চাঙ্গা হয়। ঈদের ছুটিতে অনেকে বেড়াতে যান, ফলে পর্যটন খাতেও থাকে ব্যস্ততা। কিন্তু এ বছর এসবই বন্ধ রয়েছে। এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া ঋণের বোঝা বড় হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের পাওনা আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর এখন টিকে থাকাই দায়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সভাপতি মো. হেলালউদ্দিন বলেন, একজন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে দেশে ৫৬ লাখ উদ্যোক্তা ব্যবসা ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যাদের বড় অংশের ব্যবসার সঙ্গে ঈদের বেচাকেনার সম্পর্ক রয়েছে। ঈদের বেচাকেনা না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান চলতে পারবে না। কারণ ঈদের বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন ঋণ শোধ করা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তিনি এই ধরনের ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের কাছে আলাদা করে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসার পুরোটাই এবার লোকসানে পড়েছে। উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ নেই। যতটুকু আছে সেখানেও ক্রেতার কেনার আগ্রহ কম। অধিকাংশই এখন অতিরিক্ত ব্যয় করার চেয়ে সঞ্চয় ধরে রাখার কথা ভাবছে। আবার অনেকের কেনার ক্ষমতা কমেছে। ফলে ছোট, মাঝারি ব্যবসায়ীরা এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে অনলাইনে কেনাকাটা ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
- বিষয় :
- এসএমই খাতে