ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

খেলাপি না করার সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের দাবি

খেলাপি না করার সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের দাবি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:৩২

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কেউ ঋণের টাকা না দিলেও তাকে নতুন করে খেলাপি করতে পারবে না ব্যাংকগুলো। এই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির চেয়ারম্যার নজরুল ইসলাম মজুমদার। সময় আসলে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বিএবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বিষয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত এক ভাচুয়াল বৈঠকে এ আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং এবিবির চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত ৯৮ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তার প্রশংসা করেন বিএবি ও এবিবির চেয়ারম্যান।

ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একই সাথে পরিচালন ব্যয় এবং আয় অনুপাত কমাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যয় পরিহার করতে হবে। আর বিকল্প অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেটের বিকাশের ওপর জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিবেশি দেশগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং ব্যাংকিং খাত সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ও ব্যবসায়ীদেও সহযোগিতা দেওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে শিগরি এবিবি ও বিএবি বৈঠক করবে। সেখান থেকে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করে নিজ-নিজ পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন করাতে বলা হবে।

আলী রেজা ইফতেখার বলেন, সরকার ঘোষিত প্যাকেজ বাস্তবায়নের সুবিধার্থে ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ নগদ জমার হার (সিআরআর) ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া রেপোর সুদহার কমানো হয়েছে। ফলে আমানত সংকুচিত এবং নগদ উত্তোলনের চাপ সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোতে তারল্য সঙ্কট হবে না। ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় তহবিল সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ এবং নীতি সহায়তা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, অর্থনীতিতে তহবিল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশে আপাতত ব্যাংকের বিকল্প নেই। যে কারণে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এ জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ‘ক্রেডিট রিস্ক গ্যারান্টি স্কিম’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান। এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×