এমসিসিআইর প্রতিবেদনে অভিমত
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোতে রয়েছে মিশ্র প্রবণতা
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪ | ১৩:০১ | আপডেট: ২৯ মে ২০২৪ | ১৫:১৮
তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা খাতে (আইটিইএস) আয়ের ওপর কর অব্যাহতি সুবিধা চালু রাখা উচিত। কারণ এ সুবিধা তুলে নিলে এর তথ্য প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কমবে বিনিয়োগ ও রপ্তানি। এ সুবিধা তুলে নিলেও সেটি করা উচিত ধীরে ধীরে বা পর্যায়ক্রমে। সেই সঙ্গে এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো কমিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও দরকার।
মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকার এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনটি গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে এমসিসিআই। প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সঙ্গে কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশও তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ ডিজিটাল পরিষেবার ২৭টি উপখাতের আয়ের ওপর কর অব্যাহতি দেয় সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সে কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হলে তা চার বছরের জন্য বাড়ানো হয়। নতুন কোনো ঘোষণা না এলে এই কর সুবিধার মেয়াদ চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর অর্থাৎ আগামী জুন মাসেই শেষ হচ্ছে।
এমসিসিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়ে, তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা খাতে (আইটিইএস) খাতে বর্তমান অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো। এ খাতে রপ্তানির পরিমাণ ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌছেছে। বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের। শুধু গতবছরই নতুন বিনিয়োগ হয়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের মতো। কর অব্যাহতি থাকার এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু আগামী অর্থবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তথ্যপ্রযুক্তি পরিবেষার ২৭ উপখাতে এ সুবিধা আর রাখতে চাইছে না বলে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সুবিধা না থাকলে এ খাতের বিনিয়োগ, রপ্তানি ও প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে বলেই মনে করছে এমসিসিআই।
গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমসিসিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের কয়েকটি দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে যেসব অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিয়েছে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা।
এতে বলা হয়, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কয়েকটি সূচকে উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দুটি চালিকাশক্তি রপ্তানি ও আমদানি পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল দুর্বল। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে ছিল শ্লথগতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। কমে গেছে টাকার মান ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া ও বিনিয়োগ কম হওয়ার বিষয়গুলোও লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠতে সরকার দ্রুত কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও কিছু কার্যকারী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা, মূল্যস্ফীতি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানো, ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনা, নতুন রপ্তানি বাজারে সন্ধান, প্রণোদনা কাঠামো ঢেলে সাজানো এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া।
- বিষয় :
- বাজেট
- এমসিসিআই
- তথ্যপ্রযুক্তি
