ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিআরটি প্রকল্প

এই প্রকল্প লইয়া এখন আমরা কী করিবো: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

এই প্রকল্প লইয়া এখন আমরা কী করিবো: পরিকল্পনা উপদেষ্টা
×

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ- ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ১৯:০৯ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ১৯:১৮

বাড়তি ব্যয়, অতিরিক্ত সময় ও দুর্ঘটনাকে সঙ্গী করে চলছে আলোচিত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এখন সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। নগরবাসীকে যানজটমুক্ত যাতায়াত সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পটি উল্টো যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথার ওপর বড় অংকের বিদেশি ঋণ। এ প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘বিআরটি প্রকল্পটি লইয়া এখন আমরা কী করিবো।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি নিয়ে কীভাবে এগুনো যায় তা এখনও নিশ্চিত নই।’

রোববার জাতীয় অর্থনেতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি–একনেক বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেস্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। বাকি ১৪৩ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ।

বিআরটি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‌‌‌‌‌‘রাজধানীর উত্তরা শহরের মধ্যে যেন আরও একটি শহর। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসপাতাল বেশ কিছু হাসপাতাল রয়েছে এখানে। অনেকগুলো পোশাক  কারখানা আছে। বিআরটিএ পুরোপুরি চালু হলে এই এলাকায় জনভোগান্তি আরও বাড়বে। মানুষ ফুটপাথ ব্যবহার করতে পারবে না। পায়ে হেঁটে রাস্তার এক পাশ থেকে অন্যপাশে যেতে পারবে না। গাড়ি বা অন্যান্য পরিবহনের ও এভাবে প্রয়োজনে পাশ পরিবর্তনের সুযোগ নেই। প্রকল্পের শুরুতেই এসব অসঙ্গতি কেন চিন্তা করা হলো না।’

প্রকল্পটিকে অদ্ভূত এবং দানবীয় হিসেবে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কারা প্রকল্পটির উদ্যোগ নিল, কারা সম্ভাব্যতা যাচাই করল এবং ঋণের চুক্তি– এগুলোর বিস্তারিত খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের বড় অংকের বিদেশি ঋণ এবং ঠিকাদার বসিয়ে রেখে অর্থ দিতে হচ্ছে– এ বাস্তবতায় এ বিষয়টি সামনে এসেছে।’

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদেশি পরামর্শক নিয়োগে কাগজে নিচে ছোট করে লেখা থাকে প্রকল্পের সাফল্য–ব্যার্থতায় তাদের কোনো দায়–দায়িত্ব নেই। তবে এ দেশে যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছে তাদের দায়–দায়িত্ব রয়েছে।’ উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রকল্পটি সম্ভাবত বাস্তবায়ন সময়সীমার দিক থেকে মেগা সব প্রকল্পের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।’ 

২০১২ সালে বিআরটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পের সম্প্রসারিত নাম ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট)’। ২০১৬ সালে গণপরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। ব্যয় ধরা হয় ২ হাজহার ৪০ কোটি টাকা। চার বছর মেয়াদের প্রকল্পটির নির্মাণকাজ দুবার সংশোধনের পরও এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি। তিন বছর আগে গার্ডার ভেঙে পাঁচজনসহ এ পর্যন্ত প্রকল্পে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১১ জনের। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন

×