সরল, প্রয়োগযোগ্য ও ন্যায়সংগত তামাক কর কাঠামোর সুপারিশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটি সরল, প্রয়োগযোগ্য ও ন্যায়সংগত তামাক কর কাঠামো, যথাযথ মনিটরিং এবং হালনাগাদ তথ্য বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তামাক কর ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে গতকাল শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক জাতীয় নীতি সংলাপে এমন সুপারিশ করা হয়। পিপিআরসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বহুস্তর কর কাঠামো ধূমপায়ীদের এক ব্র্যান্ড থেকে আরেক ব্র্যান্ডে সহজে সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়, যার ফলে তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্য কমছে না। কর ফাঁকি, উৎপাদন কম দেখানো, পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব এবং ট্র্যাক-অ্যান্ড-ট্রেস ব্যবস্থার অনুপস্থিতি কর আদায়ের কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে। আঞ্চলিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুনির্দিষ্ট কর চালু করা এখন সময়ের দাবি।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কার্যকর তামাক কর সংস্কার কেবল প্রযুক্তিগত সংস্কার নয়; বরং রাজনৈতিক অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক আখ্যানের সমন্বিত বোঝাপড়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, তামাক চাষনির্ভর জেলাগুলো দেশের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলের মধ্যে পড়ে– যা কাঠামোগত দারিদ্র্যের ইঙ্গিত দেয়। তিনি ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ, হালনাগাদ জাতীয় ডেটা অন্তর্ভুক্ত করা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণকে একটি নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের পরিচালক অধ্যাপক শফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বহুস্তর কর কাঠামো ধূমপান ছাড়ার প্রণোদনা কমায়। এ ছাড়া অবৈধ বাণিজ্য বৃদ্ধি কর বাড়ানোর ফল নয়; বরং দুর্বল আইন প্রয়োগের ফল। তামাকের চাহিদা অনমনীয় হওয়ায় কর বাড়ালে রাজস্বও বাড়ে। তামাক খাতের অর্থনৈতিক অবদান ১ শতাংশের কম, কিন্তু এর স্বাস্থ্য, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি বহুগুণ বেশি।
এনবিআরের সাবেক সদস্য এম এম ফজলুল হক বলেন, কর ফাঁকি রোধ, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং রাজস্ব পূর্বানুমানযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট আবগারি কর কাঠামো অপরিহার্য।
- বিষয় :
- তামাক
