মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি
ব্যাংকে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের মালিকানা থাকবে ৬০ ভাগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:১০ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা কেবল গ্রাহক হিসেবেই নয়, বরং ব্যাংকের মালিক হিসেবেও অংশীদারিত্ব পাবেন। দেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের মালিকানা নিশ্চিত করতে ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ অধ্যাদেশের আওতায় গঠিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকের ৬০ ভাগ মালিকানা থাকবে ঋণগ্রহীতাদের।
নতুন এ অধ্যাদেশ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগ থেকে গত বুধবার গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী দেশে ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনে গঠিত হবে ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক’, যার অন্তত ৬০ শতাংশ মালিকানা থাকবে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের হাতে। একই সঙ্গে এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যাংক একটি ‘সামাজিক ব্যবসায়’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিগত লভ্যাংশের পরিবর্তে অর্জিত মুনাফা পুনরায় সামাজিক ও দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ব্যয় করতে হবে।
ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও মূলধন কাঠামো
ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও মূলধন বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের (লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ) কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জন্য এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এক বা একাধিক জেলা বা বিভাগ, এমনকি সমগ্র বাংলাদেশে এসব ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা আর প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন হবে অন্যূন ২০০ কোটি টাকা। দেশে গঠিত কোনো ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক’ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।
কেমন হবে পরিচালনা পর্ষদ
পরিচালনা বোর্ডের কাঠামো বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড হবে ৯ সদস্যের। এর মধ্যে চারজন পরিচালক ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। এ ছাড়া তিনজন মনোনীত পরিচালক, দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন। কোনো পরিচালক একাদিক্রমে দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে তিন বছরে হবে এক মেয়াদ।
অধ্যাদেশে এই ব্যাংককে একটি ‘সামাজিক ব্যবসায়’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সামাজিক ব্যবসায় ও লভ্যাংশ নীতি বিষয়ে অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা তাদের মূল বিনিয়োগের অতিরিক্ত অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন না। অবশিষ্টাংশ নিট মুনাফা সামাজিক খাতে ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, নতুন উদ্যোক্তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে ঋণ দেওয়া হবে; আমানত গ্রহণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য ‘উদ্যোগ মূলধন’ প্রদান; ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিনা ফিতে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান এবং শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য, গবাদি পশু এবং যন্ত্রপাতির জন্য ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে এই ব্যাংক ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’ অনুসরণ করতে পারবে। তবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক সংবেদনশীলতা রক্ষা করতে হবে এবং কোনো প্রকার জবরদস্তি বা অবমাননাকর পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে না।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে এর পরিচালনা বোর্ড বাতিল বা চেয়ারম্যান/পরিচালককে অপসারণের ক্ষমতা রাখবে।
- বিষয় :
- অধ্যাদেশ জারি
- ব্যাংক
