ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট চালুর আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১৭:১৯
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বন্ধ থাকা স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট পুনরায় চালুর আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বৈঠকে ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ-ভারত কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই ধরনের আলোচনার বিষয় নিশ্চিত করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনারও।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে এবং প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘বর্ডার হাট ও স্থলবন্দরগুলো ধাপে ধাপে চালু করে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বেনাপোল ছাড়া অধিকাংশ স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। ভারত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে। তাদের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আমরা কীভাবে কাজে লাগাতে পারি, সে বিষয়েও কথা হয়েছে।’
গত দেড় বছরে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশই একে অপরের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এর ফলে বাণিজ্যে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তবে আগামী দিনে বাণিজ্যের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হলে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতোমধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরও সহজ ও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ভারত ও বাংলাদেশ এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি—তাই একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
সেপা ও ট্রান্সশিপমেন্ট বিষয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এগুলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অংশ। পাশাপাশি স্থলবন্দরগুলো চালু করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
- বিষয় :
- বাণিজ্যমন্ত্রী
- ভারত
- স্থলবন্দর
