ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চলতি বছরের বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফ

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নামতে পারে

যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নামতে পারে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চললে বড় ধরনের সংকটে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি। এতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে। দেখা দিতে পারে আর্থিক অস্থিরতা। যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী হলে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি খারাপ হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশেও নেমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক মন্দার খুব কাছাকাছি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ১৯৮০ সাল থেকে এমন পরিস্থিতি মাত্র চারবার হয়েছে। সর্বশেষ হয় কভিড-১৯-এর সময়ে। গত বছর বৈশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। 

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী হলে ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তা ৫ শতাংশের ওপরে উঠতে পারে। এমনকি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশেও পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আগামী বছর তা ৬ শতাংশের বেশিও হতে পারে। এর প্রভাব উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর প্রায় দ্বিগুণ হবে।
প্রতিবেদন বলছে, এই সমস্যার প্রধান কারণ হবে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়বে। এতে পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাবে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। ফলে সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। 

আইএমএফ বলেছে, যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক বাজারেও চাপে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে চাইলে শেয়ারবাজারে দরপতন হতে পারে এবং ঋণের সুদের হার বেড়ে যেতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও ধীর করে দেবে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে। এতে ঋণ নেওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। ফলে মানুষ কম খরচ করবে এবং ব্যবসাতেও কম বিনিয়োগ হবে।
আইএমএফ আরও বলেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ তারা বেশি পরিমাণে জ্বালানি আমদানি করে এবং তাদের মুদ্রার মান দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে তাদের অর্থনীতিতে চাপ আরও বেড়ে যাবে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।
এর আগে গত অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রকাশিত আউটলুকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় তা কমিয়েছে আইএমএফ। একই কারণে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। গত অক্টোবর মাসে আইএমএফ বলেছিল, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন

×