রিটেইল কংগ্রেসে বক্তারা
খুচরা ব্যবসায় ক্রেতার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের রিটেইল বা খুচরা বিক্রয় খাতে বেশ পরিবর্তন এসেছে। ক্রেতারা এখন কেবল পণ্য নয়, বরং দোকানের উন্নত পরিবেশ, মানসম্মত সেবা ও আভিজাত্য কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে এ খাতের বাজার সম্প্রসারণের বেশ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সেজন্য ব্যবসায়ীদের সহজে অর্থায়ন, উন্নত পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস ২০২৬’–এ খুচরা খাতের ভবিষ্যৎ ধারা শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এসব মতামত উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সহযোগিতায় বাংলাদেশ রিটেইল ফোরাম আয়োজিত কংগ্রেসের অষ্টম সংস্করণের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জ্ঞানের মাধ্যমে খুচরা খাতের রূপান্তর’। অনুষ্ঠানটি পরিবেশন করে ‘স্বপ্ন’ এবং সহায়তায় ছিল সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ও বাটা বাংলাদেশ। এতে সহযোগিতা করে কনকা ও গ্রি।
দিনব্যাপী সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন, প্যানেল আলোচনা এবং ইনসাইট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শীর্ষস্থানীয় খুচরা বিক্রেতা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী, পোশাক খাতের নেতা এবং বিপণন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। প্যানেল আলোচকরা জানান, দেশের খুচরা বিক্রয় খাতকে এগিয়ে নিতে হলে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করতে হবে। খুচরা বিক্রেতাদের সহজে অর্থায়ন, উন্নত লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন জরুরি। তারা ভারতের ‘কুইক কমার্স’ বা অতিদ্রুত ডেলিভারি মডেলের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রযুক্তি বাজারকে নতুন রূপ দিতে পারে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম আধুনিকায়ন করে এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে পারলে বাংলাদেশেও একই ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমএইচএম ফাইরোজ বলেন, ক্রেতার কাছে পণ্যের চেয়ে অভিজ্ঞতাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় ক্রেতার দোকানে গিয়ে পণ্য চাওয়া এবং তা কিনে নিয়ে আসাই ছিল স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু এখন চিত্র বদলেছে। তারা এখন দোকানের পরিবেশ, সংগীত, কর্মীদের পোশাক ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ইলেকট্রনিকস এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্সের আউটলেটগুলোতে এক্সপেরিয়েন্স জোন বা অভিজ্ঞতা কেন্দ্র দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ক্রেতারা পণ্য ব্যবহার করে তাদের দৈনন্দিন জীবনে কী পরিবর্তন আনতে পারে, তা সরাসরি অনুভব করতে পারছেন। তাঁর মতে, টেলিভিশন এখন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি তথ্য ও বিনোদন পণ্যে পরিণত হয়েছে।
বাটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারিয়া ইয়াসমিন জানান, বাংলাদেশের খুচরা বাজার এখন প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত। বিত্তবান ক্রেতারা মূলত বিশেষায়িত বিক্রয়কেন্দ্রে যান উন্নত সেবা ও অভিজ্ঞতার খোঁজে, যেখানে পণ্যের দামের চেয়ে তারা মানের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন। ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা পণ্যের মানের পাশাপাশি সেবার নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি এবং সঠিক দামের সমন্বয় খোঁজেন। আর স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের কাছে পণ্যের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী দামই প্রধান বিবেচ্য।
ইনামি বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড তানজিম আলম বলেন, প্রযুক্তির প্রভাবে ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়ছে। দেশে মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের ফলে ক্রেতারা এখন অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ। তারা শুধু সাধারণ অনুসন্ধানেই সীমাবদ্ধ নন, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অনুসন্ধান ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তুলনা করছেন। ফলে ব্র্যান্ডগুলোর জন্য অনলাইনে উপস্থিতি বজায় রাখা এখন আর ঐচ্ছিক নয় বরং অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তাঁর মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ ও ব্র্যান্ডের প্রতি আনুগত্য কমে আসা বাজারে বড় কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তারা অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ঘরে বসেই সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা বড় কোম্পানিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- বিষয় :
- ব্যবসা
