বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএর সেমিনারে অভিমত
সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এখন সবচেয়ে বড় বিবেচনা। ভোক্তা, ব্র্যান্ড-ক্রেতারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী, যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে নিশ্চিত করবে। এই প্রক্রিয়ায় সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর কেবল পরিবেশগত কোনো আলোচনার বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুর রহিম খান।
আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বর্জ্য হ্রাস, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদার, উদ্ভাবন ও মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সরকার উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, টেকসই বিনিয়োগকে সহায়তা এবং অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন অনুমোদন ও লাইসেন্সের জন্য বহু প্রতিষ্ঠানের দ্বারে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের পরই অস্থায়ী অনুমোদন পাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্থায়ী অনুমোদন ও লাইসেন্স সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদিত পণ্যসহ সবকিছুকেই টেকসই হতে হবে।
আলোচনায় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে পুনর্ব্যবহার, উপকরণ প্রতিস্থাপন এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটি শুধু পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়ক নয়, বরং ব্যবসায়িক ব্যয় কমিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ায় এবং উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করে। মিলার বলেন, ইইউতে প্রতিবছর ৫০ লাখ টনের বেশি পরিত্যক্ত পোশাক এবং বাংলাদেশে প্রায় ছয় লাখ টন টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়। এই বিপুল বর্জ্য এবং ফাস্ট ফ্যাশন মডেলের প্রভাব মোকাবিলায় ২০২২ সালে ইইউ টেকসই ও সার্কুলার টেক্সটাইল কৌশল গ্রহণ করেছে।
- বিষয় :
- খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
