নতুন উচ্চতায় প্রাইম ব্যাংক
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৭:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৫ সাল প্রাইম ব্যাংকের জন্য বিশেষ সাফল্যের বছর। দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের ফলে রেকর্ড ৯১০ কোটি টাকা সমন্বিত নিট মুনাফা সাফল্যের একটি বড় উদাহরণ। ব্যাংকটি জানিয়েছে, এই সাফল্য এক দিনে আসেনি। বড় করপোরেট গ্রাহকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যাংকটি পৌঁছে গেছে দেশের তৃণমূল অর্থনীতিতে। নারায়ণগঞ্জের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের সরবরাহকারী এবং আধা-শহুরে অঞ্চলের নতুন গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের সেবার বিস্তৃতি ঘটেছে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ এখন প্রাইম ব্যাংকের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত– দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
প্রাইম ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছর ২৪ শতাংশ মুনাফা প্রবৃদ্ধি কোনো সাময়িক সুবিধা বা এককালীন আয় থেকে আসেনি। এটি এসেছে এমন একটি ব্যাংকিং মডেল থেকে, যেখানে সঠিক গ্রাহকগোষ্ঠীর জন্য সঠিক পণ্য তৈরি করা হয়েছে প্রযুক্তি, কমপ্লায়েন্স ও অন্তর্ভুক্তিকে ভিত্তি করে। এমএফএস কার্যক্রম চালু হওয়া, ডিজিটাল ট্রেড ফাইন্যান্সের বিস্তার এবং অনগ্রসর অঞ্চলে এসএমই ঋণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাইম ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে এসএমই ফাইন্যান্স ফোরাম ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) থেকে। গ্লোবাল এসএমই ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ডসে ব্যাংকটিকে ‘এসএমই ফাইন্যান্সার অব দ্য ইয়ার – এশিয়া’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য আইএফসি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যাংকগুলোর এসএমই কার্যক্রম মূল্যায়ন করে পোর্টফোলিওর মান, গ্রাহকসেবা বিস্তৃতি, পণ্যের নকশা ও অর্থনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে। এশিয়ার মতো বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল এসএমই অর্থনীতির অঞ্চলে এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রমাণ করে, প্রাইম ব্যাংকের এসএমই কার্যক্রম শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বৈশ্বিক মানদণ্ডেও প্রতিযোগিতামূলক।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডই হলো এসএমই খাত। বেসরকারি খাতের অধিকাংশ কর্মসংস্থান এবং নন-ফার্ম জিডিপির বড় অংশ এই খাত থেকে আসে। যে ব্যাংক দক্ষতার সঙ্গে এসএমই খাতকে অর্থায়ন করতে পারে– যথাযথ কাঠামোর ঋণপণ্য, দ্রুত সেবা এবং ডিজিটালভিত্তিক ঋণ বিতরণের মাধ্যমে– তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির একটি শক্তিশালী বাজার দখল করতে সক্ষম হয়।
আধুনিক গ্রাহকের জন্য নতুন ব্যাংকিং
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের গ্রাহক চাহিদা বদলে গেছে। গ্রাহক এখন ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট সুবিধা, তাৎক্ষণিক লেনদেন, কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট এবং দ্রুত সেবা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে তারা চান, ব্যাংক যেন তাদের ব্যবসার ধরন বুঝে উপযুক্ত ঋণ সুবিধা দেয় এবং অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঝামেলা কমায়। এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রাইম ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে তাদের গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম পুনর্গঠন করেছে।
প্রাইম ব্যাংকের করপোরেট ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা এখন কাগজবিহীন ও রিয়েল-টাইম এলসি প্রসেসিং সুবিধা পাচ্ছেন, যা তাদের কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনায় সময় কমাচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় ডকুমেন্ট যাচাইয়ের ফলে ট্রেড ফাইন্যান্সে দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল জটিলতা ও বিলম্ব কমেছে। শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী গ্রাহকদের জন্য দেশের প্রথম ব্যাংকিং সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ভিডিও সেবা চালু করেছে প্রাইম ব্যাংক, যা একটি বড় অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এমন গ্রাহকদের কাছেও ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে, যারা হয়তো কখনও ব্যাংক শাখায় যাননি।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তিই প্রবৃদ্ধির কৌশল
বাংলাদেশে এখনও বিপুলসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক
মানুষ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার বাইরে রয়েছেন। এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় সম্ভাবনাময় বাজার। স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পরিচয় অবকাঠামো শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেসব ব্যাংকের শক্তিশালী ডিজিটাল ও মোবাইল ব্যাংকিং সক্ষমতা রয়েছে, তারাই এই নতুন বাজার দখল করবে। প্রাইম ব্যাংক জানিয়েছে, এমএফএস অনুমোদন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পণ্য উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাংকটি নিজেকে সেই ভবিষ্যৎ গ্রাহকদের প্রধান ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলছে, যারা আগামী এক দশকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করবে।
- বিষয় :
- ব্যাংক
