ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বাজেট ২০২৬-২৭

প্লাস্টিক ও বেভারেজের কাঁচামাল রেজিনের শুল্ক বেড়ে দ্বিগুণ

প্লাস্টিক ও বেভারেজের কাঁচামাল রেজিনের শুল্ক বেড়ে দ্বিগুণ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১২:১৭

প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক ও বেভারেজ শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ করে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের প্লাস্টিক, বেভারেজ, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাবে। উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

নির্মাণ খাত, প্যাকেজিং শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, অটোমোবাইল শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে পিভিসি ও পিইটি রেজিন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পিভিসি রেজিন দিয়ে পাইপ, ফিটিংস, পানির ট্যাঙ্ক, হাউসহোল্ড পণ্য, ফ্লোরিং সামগ্রী, বৈদ্যুতিক তার ও কেবলের আবরণ, কৃত্রিম চামড়া, জুতার সোল তৈরি করা হয়। অন্যদিকে পিইটি রেজিন ব্যবহার করা হয় পানীয় ও খাদ্যপণ্যের বোতল ও কনটেইনার, ওষুধ ও ভোক্তা পণ্যের প্যাকেজিং এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের উৎপাদনে। ফলে শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব শুধু প্লাস্টিক শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্মাণ, প্যাকেজিং, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিকস এবং অটোমোবাইল খাতেও পড়বে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে পিভিসি রেজিনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় পাঁচ লাখ টন। পিইটি রেজিনের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। এর বিপরীতে স্থানীয় পর্যায়ে পিভিসি রেজিনের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দেড় লাখ টন এবং পিইটি রেজিনের উৎপাদন সক্ষমতা এক লাখ টন। মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ রেজিন আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রেজিনের দাম বর্তমানে আমদানি করা রেজিনের চেয়ে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি। এ বাস্তবতায় আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি সরাসরি শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। 

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক বিপণন, কামরুজ্জামান কামাল  বলেন, কাঁচামালের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে পাইপ, ফিটিংস, পানির ট্যাঙ্ক, বেভারেজ বোতল, প্যাকেজিং সামগ্রী, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ, কৃত্রিম চামড়া ও জুতাসহ নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পাবে এবং ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রচ্যে সংঘাতের কারণে রেজিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্লাস্টিক শিল্প ইতোমধ্যেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন অবস্থায় এর ওপর শুল্ক বৃদ্ধি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন

×