ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বাজেটের পর শেয়ার বাজারে বড় উত্থান

বাজেটের পর শেয়ার বাজারে বড় উত্থান
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১২:২১

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ৫৬২৫ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচকের এ বৃদ্ধি গত ৮ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। এ ছাড়া সূচকের সর্বশেষ অবস্থান গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বা গত ৯ মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

এ ছাড়া টানা নবম দিনে ঢাকার শেয়ারবাজারে এক হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। গত বছরের আগস্টের পর এমন লেনদেন হচ্ছে। এদিন শুধু ঢাকার শেয়ারবাজারে গতকাল এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। চট্টগ্রামের বাজার মিলে লেনদেন প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। 

এমন উত্থানের কারণ জানতে চাইলে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, প্রথমত এবারের বাজেটকে বিনিয়োগকারীরা বেশ পছন্দ করেছেন। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের ঘোষণারও বড় ভূমিকা আছে। 

ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাজেট বেশ ভালো হয়েছে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। ইতিবাচক দিক হলো– ব্যবসা সহজ করা এবং খরচ কমাতে ভ্যাট, উৎসে কর কমানোসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। বিনিয়োগকারীরা এটাই চান।

এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ থামাতে শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি এসেছে। বাজারে এরও বড় প্রভাব আছে বলে মনে করে মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার অর্থ মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ফের শুরু হবে, জ্বালানি তেলের দাম কমবে। এ সমস্যা ব্যবসায়ীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে। একসঙ্গে দুটি ঘটনা বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী করেছে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমনের ব্যাখ্যাও প্রায় একই রকম। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার ইস্যুতে অর্থমন্ত্রী যে বেশ ‘সিরিয়াস’ তা মানুষ বিশ্বাস করছে। সরকার গঠনের আগে তিনি গত দুই বছর এ বাজারের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিজেই এর উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছেন বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। সর্বশেষ বাজেটেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। 

মিনহাজ মান্নান আরও বলেন, সবচেয়ে বড় কথা, বর্তমান অর্থমন্ত্রী নিজেই শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি জানেন অর্থনীতিতে এ বাজারের প্রয়োজন কতটা, এর সমস্যা কোথায়, কীভাবে এটা ঠিক করতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শীর্ষ পদে সম্পূর্ণ বদল করেছে। এর আগে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কাজ করা তানভীর গনিকে শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এগুলোই বিনিয়োগকারীদের এ বাজারে টেনে আনছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, তাঁর সরকার ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চান। এজন্য শেয়ারবাজারে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। 

ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে সহজে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং বাড়তি খরচ কমানোর কথা বলেছেন। এ জন্য আইপিও প্রক্রিয়া ‘পেপারলেস’ বা প্রযুক্তিনির্ভর ও সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। 

এ ছাড়া ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমাতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে ‘পৌর বন্ড’ ইস্যু করার কাঠামো তৈরি করার কথা বলেছেন। অর্থাৎ সরকারও শেয়ারবাজারের ব্যবহার করতে চায়।

গতকালের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বস্ত্রসহ ছোট খাতগুলোতে মিশ্র ধারা থাকলেও ব্যাংকসহ সব বড় খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের, যা প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের শেয়ারদর গড়ে ৩ শতাংশ এবং বীমা খাতের শেয়ারদর গড়ে ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

আরও পড়ুন

×