বাজেট
ভর্তুকি, প্রণোদনায় যাবে সোয়া লাখ কোটি টাকা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১২:১৮
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ বরাদ্দ ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এ খাতে এক লাখ ২৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার উপস্থাপিত বাজেট নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে ভর্তুকি কমাতে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ থাকলেও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় নতুন বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বরং এ খাতে ব্যয় উচ্চ পর্যায়েই রাখতে হচ্ছে সরকারকে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেও এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে আগামী অর্থবছরেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে উচ্চমাত্রার ভর্তুকি অব্যাহত রাখা কঠিন হবে। যদিও সরকার এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে। অন্যদিকে, আইএমএফও দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়ে আসছে। এ কারণে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের পরিকল্পনা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারায় সরকারকে এখনও উচ্চমাত্রার ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। চলতি বাজেটে এ খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ থাকলেও গত মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। অর্থবছর শেষে এ খাতে ভর্তুকির প্রয়োজন প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগামী অর্থবছরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে– এমন প্রত্যাশায় বাজেটে আবারও ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরেও সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে। এ খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল, যদিও পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হওয়ার লক্ষ্যে সরকার সারের দাম বাড়াতে চায় না। এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সারে মোট ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যয় হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারের অন্যান্য সার উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। চলতি অর্থবছরেও এ খাতে একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল।
এ ছাড়া অবশিষ্ট অর্থ স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, রপ্তানি প্রণোদনা, প্রবাসী আয় প্রণোদনা, পাটজাত পণ্যে প্রণোদনা এবং সরকারি বিভিন্ন দুর্বল ও লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে নগদ ঋণ সহায়তা প্রদানে ব্যয় করা হবে।
- বিষয় :
- বাজেট
