ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সাত দাবি

আগামীকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সাত দাবি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী ব্যাংকের চলমান অনিশ্চয়তা ও গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থ পাচারের বিচার, মালিকানা কাঠামো পুনর্বিন্যাসসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি আদায় না হলে আগামীকাল রোববার থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার এবং পরদিন সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নূরুন্নবী মানিক। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু একটি ব্যাংক নয়, বরং কোটি গ্রাহকের আস্থা, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপর থেকে ব্যাংকটি থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা লুট করা 
হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি চরম তারল্য ও আস্থার সংকটে ভুগছে।
নূরুন্নবী মানিক বলেন, ব্যাংকটির পরিচালনা ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের অপসারণের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে।

সাত দফা দাবি
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবির মধ্যে রয়েছে– অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন; ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া মালিকানা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। এ ছাড়া বিদেশে পাচার করা টাকা উদ্ধারে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটেরাদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে আজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা। একই সঙ্গে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা ফেরানোর দাবিও জানায় সংগঠনটি।
অন্য বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ ও কিছু তহবিল সরবরাহ করলেও সুশাসন ফেরাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি ও ব্যাংকারদের সংগঠন এবিবি– এই দুটি সংগঠন ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে গেছে, যা পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আরও পড়ুন

×