সানেমের বিশ্লেষণ
বাজেটের কিছু পদক্ষেপ জীবাশ্ম জ্বালানিতে নির্ভরশীলতার লক্ষণ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা দেশকে দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল করতে পারে, যা সরকারের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের নীতিকে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গবেষণা সংস্থা সানেম জ্বালানি খাতের বাজেট বিশ্লেষণ করে এমন মত দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যা জানানো হয়।
সানেমের পর্যালোচনায় বলা হয়, যেমন–কয়লা খাতে ছয় লাখ টন উত্তোলনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, বড়পুকুরিয়া ও দিঘিপাড়ায় ৭৪টি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং কয়লা আমদানিতে শুল্ক সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে তেল খাতে দ্বিতীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি নির্মাণের মাধ্যমে বার্ষিক ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে। যদিও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের কৌশলগত জ্বালানি মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং এলএনজি আমদানিতে খরচ বাঁচানোর উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয়, তবুও এটি বাস্তবায়নে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, এসব উদ্যোগ কেবল সাময়িক বা আপৎকালীন বিকল্প হিসেবেই ব্যবহৃত হয় এবং কোনোভাবেই যেন দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ার নতুন পথ তৈরি না করে।
সানেম বলেছে, বাজেট সৌরশক্তির পক্ষে এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী সংকেত দিচ্ছে, তবুও বিস্তারিত উন্নয়ন বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের মোট উন্নয়ন বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বরাদ্দ বিদ্যুৎ বিভাগের মোট উন্নয়ন ব্যয়ের মাত্র ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাজেটে বায়ুবিদ্যুতের জন্য কোনো আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব করা হয়নি এবং ডিজেলে চলা সাশ্রয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৌর সেচ ও সোলার স্ট্রিট লাইটিংয়ের জন্য বাজেটে সরাসরি কোনো সহায়তার উল্লেখ নেই।
- বিষয় :
- বাজেট
