ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

১১ মাসে সংশােধিত এডিপির অর্ধেকও বাস্তবায়ন হয়নি

১১ মাসে সংশােধিত এডিপির অর্ধেকও বাস্তবায়ন হয়নি
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্ধেকও বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। সংশোধিত এডিপি ব্যয়ের এ হার ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরের একই সময়ে এর চেয়ে কম বাস্তবায়ন হয়েছিল। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১১ মাসেও সংশোধিত এডিপির ব্যয় ছিল মোট বরাদ্দেরও অর্ধেকের কম। 

গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুলাই-মে সময়ে সংশোধিত এডিপির বিভিন্ন প্রকল্পে খরচ হয়েছে এক লাখ ৭৬৯ কোটি টাকা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ছয় কোটি টাকার মতো। ওই অর্থবছরের ১১ মাসে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫৭ দশমিক ৫৪, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬১ দশমিক ৭৩, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন হয় প্রথম ১১ মাসে। অর্থবছরগুলোতে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দও ছিল চলতি অর্থবছরের তুলনায় বেশি। 

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবায়নের অগ্রগতি অত্যন্ত কম থাকায় সংশোধিত এডিপিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে, যা মূল এডিপি বরাদ্দ থেকে ১৩ শতাংশ কম। এতে সংশোধিত এডিপি বা আরএডিপির আকার দাঁড়িয়েছে দুই লাখ কোটি টাকা। 

পরিকল্পনা কমিশন এবং আইএমইডির  কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছর এডিপি ব্যয় এতটা কমে যাওয়ার অনতম প্রধান একটি কারণ হচ্ছে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) সংশোধন। এর আওতায় শতভাগ টেন্ডার ইলেক্ট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্টের (ইজিপি) আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পিপিআর বিধিমালা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দুই মাসের মতো অনেক দপ্তরে সরকারি ক্রয় প্রায় বন্ধ ছিল। এ ছাড়া রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে গেছেন। নতুন করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হয়েছে। এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। অনেক প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। কিছু প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। যার সার্বিক প্রভাব পড়েছে এডিপি বাস্তবায়নে।

গত ১১ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়া ঋণ ও অনুদান অংশ থেকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো গড়ে ব্যয় করতে পেরেছে ৪৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে এর মধ্যেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নের হার ১২৮ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণ অংশে গোটা অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পাঁচ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত ১১ মাসে ব্যয় হয়ে গেছে সাত কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও এই ১১ মাসে শতভাগ ব্যয় করেছে। ২০০ কোটি টাকার পুরোটাই ইতোমধ্যে ব্যয় গেছে। এই উৎসের অর্থ ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে খোদ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি। গত ১১ মাসে বিভাগটি ব্যয় করতে পেরেছে বরাদ্দের মাত্র ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। 

চলতি অর্থবছরের গত ১১ মাসে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এক টাকা খরচ করতে পারেনি তিন বিভাগ। এই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ।  

গুরুত্বের বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে। চলতি অর্থবছরের এডিপির মোট বরাদ্দের ৭১ শতাংশই দেওয়া হয়েছে এই মন্ত্রণালয়গুলোকে। আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। তিন হাজার ১২৮ কোটি টাকার মধ্যে গত ১১ মাসে বিভাগটির ব্যয় মাত্র ৮০৯ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ১৮ প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। 

আরও পড়ুন

×