সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে
রোববার রাজধানীর বিজয়নগরে ইআরএফ মিলনায়তনে এক সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ২৩:১৯ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ০১:১২
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে এর প্রসারকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, জ্বালানি খাতের অলিগার্কিক (গোষ্ঠীভিত্তিক) ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
রোববার রাজধানীর বিজয়নগরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউএবল এনার্জি: দ্য ফিউচার সোলার সলিউশন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্ম (ডিআরইপি) যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি খাতের অলিগার্কিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার অন্যতম উদাহরণ হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এটি জ্বালানি খাতের রাজনৈতিক অর্থনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিগত সরকার যে ‘বিষধর ব্যবস্থা’ রেখে গেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ জন্য সরকার ‘এনার্জি মিক্স’ বা বহুমাত্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কোথায় কোথায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করে এ বিষয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বড় অংশ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সম্ভব। এজন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন নেই। তবে প্রকৃত চাহিদা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। চাহিদা নির্ধারণ করা গেলে সরবরাহ নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, গৃহস্থালি, অফিস, দোকান, হাসপাতাল, বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো স্বাবলম্বিতা ও অধিকারভিত্তিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার সম্ভব নয়। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ৩০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ধীরে ধীরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এনার্জি মিক্স গড়ে তোলা।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ও ডিআরইপি সমন্বয়ক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক, আইডকোলসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে নেট মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ২১৩ মেগাওয়াট। এ ছাড়া নন-নেট মিটারিং রুফটপ সোলার ৯৪ মেগাওয়াট, সোলার হোম সিস্টেম ২৬৩ মেগাওয়াট, সৌরচালিত সেচ পাম্প ৬০ মেগাওয়াট, স্ট্রিটলাইট, চার্জিং স্টেশন ও অন্যান্য সৌরব্যবস্থা ১৭ মেগাওয়াট এবং মিনিগ্রিড প্রায় ৬ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে দেশে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫৫ মেগাওয়াট।
ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে উদ্যোক্তারা দ্রুত রুফটপ সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে সরকারও স্বীকার করছে, জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটবে না এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা টেকসই নয়। তাই দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার মালা। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশনের ম্যানেজার আবুল আজাদ, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ক্লিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হাসান মেহেদী এবং সোলশেয়ারের ইনোভেশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।