সিএমএসএমই খাতে ঋণ কমে গেছে
ওবায়দুল্লাহ রনি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৫ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুদসহ ব্যাংকের ঋণস্থিতি সব সময় বেড়ে থাকে। তবে এবার কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসইএমই) খাতে তা কমে গেছে। ছোট ও মাঝারি খাতের ঋণ স্থিতি কমে গত মার্চ শেষে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকায় নেমেছে। গত ডিসেম্বর শেষে যা ছিল তিন লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। বছরের প্রথম তিন মাসে ঋণ কমেছে ১৬ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। মূলত ঋণ বিতরণ কমলেও আদায় বেশি হওয়ায় এভাবে ঋণস্থিতি কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটিসহ অনেক ব্যাংকের এখন ঋণ কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আবার বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট ও উচ্চ সুদের কারণে গ্রাহকরাও ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে কম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রয়েছে উদ্যোগ। ফলে নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে খুব কম। সব মিলিয়ে সিএমএসএমই খাতে ঋণস্থিতি কমে গেছে। আর সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। ব্যাংক খাতে এখন যেখানে গড় সুদহার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ বিবেচনায় নিলে যা ঋণাত্মক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ বিতরণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ঋণ নেওয়ার মতো সহায়ক পরিস্থিতি নেই। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্যান্য পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার চেষ্টা করছে। এটা ঠিক হলে তখন ঋণ বিতরণ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
অধিক কর্মসংস্থানের জন্য জাতীয় এসএমই নীতিতে ২০২৯ সালের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের অন্তত ২৭ শতাংশ সিএমএসএমইতে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে বিতরণ করতে হবে ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে তা না বেড়ে কমছে। গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ১৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে সিএমএসএমইতে দেওয়া হয় ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ ছিল সিএমএসএমইতে। ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। আগের বছর শেষে মোট ঋণের ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল এ খাতে। ঋণ বিতরণ কমায় বেকারত্ব বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কম সুদের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে এই ঋণেও আগ্রহ নেই। যে কারণে আদৌ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলো ৫২ হাজার ১০৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এ সময়ে আদায় হয়েছে ৬৫ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। অবশ্য আদায়যোগ্য ঋণ ছিল এক লাখ ১৭ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। বিতরণের তুলনায় আদায় বেশি হলেও আদায়যোগ্য ঋণের বড় অংশ ফেরত আসেনি। এতে গত মার্চ পর্যন্ত সিএমএসএমই ঋণের ২৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মোটঋণের ২৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ছিল খেলাপি। অবশ্য এই খেলাপি ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের তুলনায় কম। গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
এসএমই ঋণে খেলাপির হারে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পড়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। গত মার্চ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকগুলোর সিএমএসএমই ঋণের ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর ৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ খেলাপি। বিশেষায়িত ব্যাংকের ২২ দশমিক ৫৮, বেসরকারি ব্যাংকের ১৪ দশমিক ১৫ এবং বিদেশি ব্যাংকের সিএমএসএমই ঋণের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি।
নানা অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে মাঝে খারাপ অবস্থায় পড়লেও ঋণ বিতরণে আবার শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের তালিকায় উঠে এসেছে ইসলামী ব্যাংক। ব্র্যাক, পূবালী ও সিটি ব্যাংকের পরের অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন সমকালকে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের আদায় ভালো। আবার কম ঋণে অধিক কর্মসংস্থান হয়। বেকারত্ব কমাতে যা সহায়ক। যে কারণে ইসলামী ব্যাংক সিএমএসএমইতে বিতরণে জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক সব সময়ই এ খাতে বেশি ঋণ দিয়ে আসছে। এখন সবচেয়ে বেশি ঋণ তাদের। তবে মাঝে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল।
- বিষয় :
- ঋণ