ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহার

বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহার
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাশলেস লেনদেন উৎসাহিত করতে ‘বাংলা কিউআর’ পরিশোধে মার্চেন্ট থেকে ১ শতাংশ চার্জের যে বিধান করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় লেনদেন খরচের একটি অংশ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি দুই হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে একুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ১০০ টাকায় ১০ পয়সা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ২০ পয়সা হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভর্তুকি পাবে। গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত আলাদা দুটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক, এমএফএসসহ অন্যান্য পরিশোধ নিষ্পত্তিকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক, এমএফএস ও মোবাইল ওয়ালেটের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে (কুইক রেসপন্স) করা বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে যে কোনো ব্যাংক বা এমএফএসের গ্রাহক সহজে কিউআর পরিশোধ করতে পারছেন। আবার বিক্রেতাকেও এখন আর একাধিক কিউআর কোড রাখার ঝামেলা নিতে হচ্ছে না। যে কারণে কোডভিত্তিক লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। তবে মার্চেন্ট থেকে ১ শতাংশ চার্জের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাড়া মিলছিল না। কোনো কোনো বিক্রেতা বাংলা কিউআরে পরিশোধ নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছিলেন। তাই সব ধরনের চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যা কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের ফি নির্ধারণ বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোডভিত্তিক সব লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফির (আইআরএফ) হার শূন্য নির্ধারণ করা হলো। অর্থাৎ ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান একুয়ারিং প্রতিষ্ঠান থেকে এখন আর কোনো ফি নিতে পারবে না।
অপর এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলা কিউআরে এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট একুয়ারিং প্রতিষ্ঠান মাস শেষে লেনদেনের পরিমাণের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে। কোডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণে পরিশোধ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিক ক্ষুদ্র হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ডকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টে এ ভর্তুকি দেওয়া হবে।
নির্দেশনায় প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত পরিপালনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়,  প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো একক লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে বিভক্ত বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করা যাবে না। বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনে প্রণোদনা দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে যে কোনো সময় প্রতিষ্ঠানের লেনদেন রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিষ্পত্তির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক দলিলাদি যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে কৃত্রিম বা অন্য কোনো ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে বা ভুলবশত প্রণোদনা দিলে তা ফেরত বা সমন্বয় করতে পারবে। 
কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট একুয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। কৃত্রিমভাবে লেনদেন, ক্যাশ আউটসহ যে কোনো অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে এবং প্রণোদনার অর্থ ফেরত বা সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন

×