অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ধরে রাখা আগের চেয়ে জরুরি
গত মঙ্গলবার ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিচালনা: ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলােচনায় এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমানসহ কর্মকর্তারা- ফটাে রিলিজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিচালনা: ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বাংলাদেশ’ এক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলোচকরা এসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির পরামর্শ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এ আলোচনা হয় বলে এইচএসবিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক ও এশীয় বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন এইচএসবিসির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে এইচএসবিসির ধারাবাহিক সংযোগের অংশ হিসেবে এটি আয়োজিত হয়। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করাই ছিল এই ফোরামের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এইচএসবিসি এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও রিজিওনাল হেড অব গ্লোবাল ট্রেড সলিউশন্স আদিত্য গাহ্লট। তিনি উল্লেখ করেন, গত পাঁচ দশক ধরে বিশ্ববাণিজ্য একটি মাত্র মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে আর তা হলো ‘দক্ষতা’। তবে বর্তমান বাস্তবতায় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চারটি মূল ক্ষেত্রে তাদের কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণ করতে হচ্ছে–সরবরাহ ব্যবস্থা, মূলধন বিনিয়োগ, রেভিনিউ মডেল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত বিনিয়োগ। তিনি আরও বলেন, এইচএসবিসির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, ব্যালান্স শিট এবং স্ট্রাকচারিং সক্ষমতা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবর্তনশীল বাণিজ্য পরিবেশে প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চ যুক্তরাজ্যের সিনিয়র ট্রেড ইকোনমিস্ট শানেলা এল রাজানায়াগাম। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও সামনে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। পণ্য পরিবহন খাতে অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির অনিশ্চয়তা এবং এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে তৈরি হওয়া কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশের বাণিজ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
শানেলা এল রাজানায়াগাম বলেন, একদিকে বৈশ্বিক এই বৈরী আবহ, অন্যদিকে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে এই কঠিন সময়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে প্রধান প্রধান বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখাটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের এই বদলের হাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার অনেক নতুন পথ খুলছে। দেশের ভেতর পণ্যের জোরালো চাহিদা এবং উদ্যমী তরুণ জনবল আর দিন দিন বাড়তে থাকা ব্যবসার ওপর ভর করে আমাদের দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে বাংলাদেশি ব্যবসাগুলো দারুণভাবে তৈরি।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড অব গ্লোবাল ট্রেড সলিউশন্স আহমদ রাবিউল হাসান বলেন, দেশি ও বিদেশি ব্যবসাগুলো যখন নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে এগোচ্ছে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তখন তাদের এই যাত্রায় পাশে থাকতে পেরে এইচএসবিসি সত্যি আনন্দিত।
- বিষয় :
- বাণিজ্য চুক্তি