ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

খেলাপি ঋণ আদায়ে ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার-রুম’

খেলাপি ঋণ আদায়ে ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার-রুম’
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৪

দুর্বল পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ আদায় জোরদারে বিশেষ ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার রুম’ গঠন করা হয়েছে। এখান থেকে আদায় কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হবে। ঋণ আদায় ও পুনরুদ্ধারে সম্ভাব্য সব সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

রোববার ব্যাংকের করপোরেট হেড অফিসের সম্মেলন কক্ষে নতুন এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি, বড় ঋণগ্রহীতাদের থেকে আদায় কৌশল, প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পাঁচ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আদায় ও লিগ্যাল ডিভিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে গঠিত হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। গত বছরের নভেম্বরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়। যেখানে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এতদিন ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক দিয়ে চলছিল। তবে স্বতন্ত্র পর্ষদ ও এমডি নিয়োগের পর ধাপে ধাপে সর্বশেষ গত সপ্তাহে সব প্রশাসক তুলে নেওয়া হয়েছে।

কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার রুম গঠনের উদ্দেশ্য হিসেবে জানানো হয়—ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে খেলাপি ও অনাদায়ী বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার করা। বিনিয়োগ আদায়ের সম্ভাব্য সকল সুযোগ সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো। একই সঙ্গে বড় বিনিয়োগগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত ফলো-আপ নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত আইনগত ও অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সর্বোপরি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা তাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি কার্যক্রমকে শুধু একটি নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকের আর্থিক পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কার্যকর ও দ্রুত ঋণ আদায় নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। 

তিনি আরও বলেন, এখানে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, গ্রাহকবান্ধব ও পেশাদার ইসলামী ব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন

×