চীনের কর সংস্কার বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে
পিআরআইর আলোচনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে চীনের কর সংস্কারের অভিজ্ঞতা শিক্ষণীয় হতে পরে। গতকাল বৃহস্পতিবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) চীনের করব্যবস্থা ও সংস্কার নিয়ে বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
পিআরআই জানায়, চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ভাইস ডিন এবং পাবলিক বাজেটিং রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক পিং ঝ্যাং বিশেষ বক্তা ছিলেন। তিনি চীনের করব্যবস্থা, রাজস্ব কাঠামো, কর আইনের কাঠামো এবং কর সংস্কারের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে সম্ভাব্য শিক্ষণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ঝাং উল্লেখ করেন, চীন মূলত পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরশীল, এবং ভ্যাট (VAT) এখনও তাদের সবচেয়ে বড় রাজস্ব উৎস। তিনি জানান, পরোক্ষ কর চীনের মোট কর রাজস্বের প্রায় ৬৫ শতাংশ, করপোরেট আয়কর ২৬ শতাংশ, আর ব্যক্তিগত আয়কর ৯ শতাংশ।
অধ্যাপক ঝ্যাং চীনের কর সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১৯৮৪-১৯৮৫ সালের ‘মুনাফা থেকে কর’ সংস্কার এবং ১৯৯৩-১৯৯৪ সালের কর-ভাগাভাগি ব্যবস্থা সংস্কার, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় রাজস্বে অংশ প্রায় ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, স্থানীয় সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়-দায়িত্বের মধ্যে সৃষ্ট ব্যবধান কীভাবে স্থানীয় সরকারগুলোকে কেন্দ্রীয় হস্তান্তর এবং জমি-সংক্রান্ত রাজস্বের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছিল।
অধ্যাপক ঝ্যাং চীনের ‘ল্যান্ড ফাইন্যান্স’ মডেল নিয়েও আলোচনা করেন, যেখানে স্থানীয় সরকারগুলো ভূমি-ব্যবহার অধিকার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থায়ন করেছিল, যা প্রধান শহরগুলোর দ্রুত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চীনের অভিজ্ঞতার আলোকে অধ্যাপক ঝ্যাং বাংলাদেশের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন–সরকারের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে রাজস্ব ও ব্যয়ের দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন; সম্পত্তি-সম্পর্কিত রাজস্বের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষ রাজস্ব বণ্টনব্যবস্থা প্রবর্তন; এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব রাজস্ব আহরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিশেষ করে সম্পত্তির মূল্যায়ন ও কর আদায়ব্যবস্থার উন্নয়ন।
বিশেষ বক্তৃতার পর বাংলাদেশের সরকারি অর্থব্যবস্থা, করনীতি, ব্যবসা, গণমাধ্যম ও নীতি গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলে ছিলেন পিআরআইর সম্মাননীয় ফেলো ড. আহসান এইচ. মনসুর, সাবেক সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রফেসরিয়াল ফেলো ড. সুলতান হাফিজ রহমান, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, আইনি অর্থনীতিবিদ এম.এস. সিদ্দিকী, এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।
- বিষয় :
- পিআরআই