নীতি সুদহার এবং ঋণ নেওয়ার ব্যয়ের পার্থক্য কমাতে হবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারি-বেসরকারি সংলাপ প্ল্যাটফর্ম বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতির ওপর প্রতিক্রিয়ায় নীতি সুদহার এবং বাজারে ঋণ গ্রহণের ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। বিল্ড গতকাল বৃহস্পতিবার এই প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছে।
বিল্ড বলেছে, মুদ্রানীতি কমিটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে নীতি সুদহার সাড়ে ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বর্তমানে প্রকৃত ঋণ গ্রহণের ব্যয় ১৩ থেকে ১৭ শতাংশ। এই ব্যবধান অনেক বেশি থাকায় বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে।
বিল্ডের মতে, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও, ঝুঁকি প্রিমিয়াম, প্রসেসিং চার্জ এবং ব্যাংকভিত্তিক স্প্রেড (৩.৫%) যোগ হওয়ার পর অনেক এসএমই এবং সিএমএসএমই ঋণগ্রহীতার জন্য কার্যকর সুদের হার অনেক বেশি থাকে। এটিই বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে আটকে থাকার অন্যতম কারণ।
প্ল্যাটফর্মটি আরও বলেছে, ব্যবসার জন্য সহজ ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার আশঙ্কাজনকভাবে ৩২.৭৮ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ক্ষয় হচ্ছে এবং মুদ্রা সঞ্চালন দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্যাংকিং খাতের স্বাস্থ্য ফেরাতে সুশাসন ও পুনরুদ্ধার জোরদার করার পাশাপাশি একটি স্পষ্ট ও সময়াবদ্ধ খেলাপি ঋণ সমাধান কৌশল ঘোষণার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানায় বিল্ড।
বিল্ডের প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়, আগস্ট মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশে নেমে আসে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি তা উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ এর ফলে পরিবহন, উৎপাদন ও ভোক্তা ব্যয় বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রানীতির মূল্য স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলতে পারে।
বিল্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে শিল্প প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। তাই মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্যের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উচ্চ ঋণ ব্যয়, বাহ্যিক অস্থিরতা এবং বাড়তি জ্বালানি খরচ ব্যবসায়িক খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
বিল্ড সুপারিশ করেছে, আর্থিক মধ্যস্থতার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতিহারের কার্যকর সঞ্চালন, সংকুচিত লেন্ডিং-ডিপোজিট স্প্রেড এবং খেলাপি ঋণ নিরসনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সময়াবদ্ধ কৌশল অত্যন্ত জরুরি। নীতির পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং ব্যাংকিং খাতের সুশাসন উৎপাদনশীল বেসরকারি বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও বেশি সহায়তা করবে।
প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, মুদ্রানীতিতে শুধু নীতি হার মনিটরিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি স্পষ্ট সঞ্চালন কাঠামো তৈরি করায় জোর দেওয়া যেতে পারে। এই কাঠামোর সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, এসএমই ঋণ এবং কর্মসংস্থান, চলতি মূলধন অর্থায়নের প্রাপ্যতা, জামানতের শর্ত, ঋণ অনুমোদনের সময়, খাতভিত্তিক ঋণপ্রবাহ এবং নীতিহার ও কার্যকর সুদের হারের ব্যবধানের সংযোগ থাকতে হবে।
- বিষয় :
- ঋণ