ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

তিন মাসে আইপিও অনুমোদন তথ্যের ভুলের দায় অডিটরের

তিন মাসে আইপিও অনুমোদন তথ্যের ভুলের দায় অডিটরের
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে এখন থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদন মাত্র তিন মাসের মধ্যে অনুমোদন করা হবে। আইপিও আবেদনের পর কোনো নথি সঠিক কিনা কিংবা অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে তা বিএসইসি থেকে চাওয়া হবে না। যাচাই-বাছাই ও অতিরিক্ত তথ্যসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করবে স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে বিবরণীতে কোনো ভুল বা জালিয়াতি পাওয়া গেলে তার জন্য অডিটরকে কঠোরভাবে দায়বদ্ধ করা হবে।

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিএপিএলসি এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান এসব কথা জানান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের মূলধন মাত্র ৬ শতাংশ। তাই বাজার মূলধন ও লেনদেন বাড়াতে বহুজাতিক কোম্পানি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্তত এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ বা টার্নওভার থাকা বড় দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের নিয়ম পরিমার্জন করা হচ্ছে। কমপ্লায়েন্সের ভয়ে যেসব কোম্পানি বাজারে আসতে চায় না, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডিজিটাইজেশনের এই যুগে তথ্য লুকিয়ে রাখা অসম্ভব। লিস্টিংয়ের ফলে কোম্পানির আসল ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হয় এবং মূলধন সংগ্রহ সহজ হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্বল মৌলিভিত্তির শেয়ারের আধিক্য এবং দেখাদেখি বিনিয়োগ করার প্রবণতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে বিএসইসি বা ডিএসইর লোগো ব্যবহার করে দুই সপ্তাহে টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখাচ্ছে ডিজিটাল প্রতারক চক্র। ডিএসই ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জভিত্তিক একটি চক্রকে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে এবং এখন থেকে সামাজিক মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান সব মূলধন এক জায়গায় না রেখে পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করা এবং খারাপ সময়ে সংসার চালানোর জন্য জরুরি তহবিল রাখার পরামর্শ দেন। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান বলেন, বাজারে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আত্মবিশ্বাসের অভাব। বাজার সম্পর্কে নিজে বুঝে বিনিয়োগ করার ওপর জোর দেন তিনি।
বিএপিএলসি সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ বলেন, পুঁজিবাজারে শুধু নতুন মূলধন আনলেই হবে না, বরং বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সাউথইষ্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেসের সিইও মো. মমিনুল হক বলেন, দীর্ঘ এক দশকের মন্দা কাটিয়ে পুঁজিবাজারে এখন ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে। তবে ফেসবুক ও ইউটিউবে নকল স্ক্রিনশট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ডিজিটাল ফিসিং থেকে নিজের বিনিয়োগ রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন

×