বিদেশি ঋণের অর্থ সংরক্ষণে এফসি হিসাব খোলা যাবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিদেশি ঋণের অর্থ সংরক্ষণের জন্যও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাব খোলা ও পরিচালনা করার সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন শুধু রপ্তানি বা অন্য উপায়ে করা আয়ের বিপরীতে এফসি হিসাব খোলা যেত। এখন মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ এভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। গতকাল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি (আইবিএ), বৈদেশিক ঋণ বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক বা স্ট্যান্ডিং কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদিত ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ঋণের অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের হিসাবে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবা মূল্য পরিশোধেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে। স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এফসি হিসাবের বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় ভাঙানো যাবে। এ ছাড়া ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী এসব হিসাবের স্থিতির ওপর সুদ নেওয়া যাবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ জন্য খোলা হিসাবে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও ডলার সংরক্ষণ করা যাবে। ঋণ চুক্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে, ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি স্থিতি রাখা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যবস্থাপনা সহজ করতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমদানি ও সেবা মূল্য পরিশোধ, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় এবং বৈদেশিক ঋণের নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
- বিষয় :
- ঋণ