ন্যাশনাল ব্যাংক টেকাতে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা ন্যাশনাল ব্যাংককে এবার সাত হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিল সোনালী ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ১০ শতাংশ সুদে আগামী তিন মাসের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আমানতকারীর জমানো টাকা ফেরত দেবে ব্যাংকটি। এর আগে বিশেষ ধার নিয়ে আর ফেরত দিতে না পারায় বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা পাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে নতুন করে ধার দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংক মোট ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার চেয়ে আবেদন করেছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে দিয়ে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাদের জমানো টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই নির্দেশনার পর গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত অর্থ ফেরতের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। নিজস্ব উৎস থেকে দিতে না পারলে অন্য ব্যাংক থেকে ধার নেবে এটা একটা স্বাভাবিক নিয়ম।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক খাতের প্রতি আমানতকারীর আস্থা ফেরাতে নানা উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বন্ধ হতে যাওয়া কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের সরকারি তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমানতকারীর আস্থা ফেরানো মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, ন্যাশনাল ব্যাংক এই টাকায় আমানতকারীর চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান সমকালকে বলেন, ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে তার অংশ হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের এই প্লেসমেন্টের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টি আছে। নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করে দেবে। ফলে এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই।
২০০৯ সাল থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল সিকদার পরিবারের হাতে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের অনিয়ম দুর্নীতির প্রভাবে ব্যাংকটি টানা লোকসানের পাশাপাশি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।
- বিষয় :
- ব্যাংক