ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

গ্রাহকের কল্যাণ তহবিলে সর্বোচ্চ ফি হবে ০.৬%

গ্রাহকের কল্যাণ তহবিলে সর্বোচ্চ ফি হবে ০.৬%
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারী কোনো গ্রাহকের মৃত্যু হলে তাঁর অবশিষ্ট মূল ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে এবং মৃত্যুর পর কোনো সার্ভিস চার্জ আদায় করা যাবে না। এ সুবিধা প্রদানের জন্য ঋণগ্রহীতাদের থেকে বিতরণ করা ঋণের সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হারে ফি আদায় করা যাবে।

ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) গতকাল সোমবার এক সার্কুলার জারি করে সব ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানকে এ জন্য তহবিল গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা ও গ্রাহকের আর্থিক-সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে নতুন এ নির্দেশিকা জারি করেছে এমআরএ।
সার্কুলারে বলা হয়েছে– ঋণ মওকুফের পাশাপাশি মৃত গ্রাহকের জমা করা সঞ্চয় মুনাফাসহ দ্রুত নমিনি বা বৈধ উত্তরাধিকারীকে ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া মৃতের পরিবারকে দাফন বা সৎকার বাবদ এককালীন কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু গ্রাহক নয়, তাঁর অভিভাবক বা পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর মৃত্যু হলেও একই সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এমআরএ।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে– প্রতিটি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘গ্রাহক কল্যাণ তহবিল’ নামে একটি তহবিল গঠন করতে হবে। বিতরণ করা ঋণের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হারে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে পৃথক এ তহবিল গঠন করা যাবে। ঋণ বিতরণের সময়ই গ্রাহককে এ অর্থ কর্তনের পরিমাণ, উদ্দেশ্য ও প্রাপ্য সুবিধা লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

এমআরএ জানিয়েছে, দাফন বা সৎকারের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে এবং ঋণ মওকুফ ও সঞ্চয় ফেরত সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য মৃত্যুসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে হবে। তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্বৃত্ত থেকে দাবি মেটাতে হবে, যা সামাজিক খাতের ব্যয় হিসেবে গণ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে– এ তহবিলের অর্থ কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় হিসেবে দেখানো বা অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। তবে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে উদ্বৃত্ত অর্থ ক্ষুদ্রঋণ হিসেবে বিতরণ কিংবা কেবল তপশিলি ব্যাংকে বিনিয়োগ করা যাবে। তহবিলের হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশের পাশাপাশি বহিঃনিরীক্ষক দিয়ে নিরীক্ষা করাতে হবে। 
জানতে চাইলে এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, আগে থেকেই গ্রাহক কল্যাণ তহবিল ছিল। তবে এর ব্যবহার ও গঠন বিষয়ে কোনো ‘স্ট্যান্ডার্ড’ ছিল না। গ্রাহক বা তার পরিবার প্রধানের মৃত্যুতে ঋণ আদায় নিশ্চিতে এক থেকে দেড় শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করত। অথচ মৃত্যুজনিত ঋণ আদায় নিশ্চিতে এ তহবিলের এক-তৃতীয়াংশ অর্থও খরচ হতো না। তাই সার্কুলারে ফি আদায়ের হার, তহবিলের ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নীতিমালা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×