সূচক সামান্য বাড়লেও লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার নিচে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কয়েক বছর ধরে অর্থনীতির গতি স্লথ। এর মধ্যে একের পর এক বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশকে। এর নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে শেয়ারবাজারে। সর্বশেষ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার খবরে আরেক দফা যে দর পতন হয়েছিল, তা থেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবারসহ চলতি সপ্তাহের শেষ তিন কর্মদিবসে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে শেয়ারদর ও সূচক।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ২১৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৪৭টির দর। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৫২ পয়েন্টে উঠেছে। এ নিয়ে সর্বশেষ তিন দিনে সূচক বেড়েছে ৪৭ পয়েন্ট।
তবে শেয়ারদর ও সূচক সামান্য বাড়লেও লেনদেনে অধোগতি আগের মতো বহাল আছে। আগের দুই দিনের তুলনায় ঢাকার শেয়ারবাজারের লেনদেন ৮৩ কোটি টাকা বাড়লেও তা ৫০০ কোটি টাকার নিচে ছিল।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা দিশা পাচ্ছেন না। এক সমস্যা শেষ না হতে আরেক সমস্যা এসে তাদের মনে অর্থনীতি নিয়ে ভীতি তৈরি করছে। ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা নতুন মাত্রা পেয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একের পর হামলার ঘটনায়। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি আরও কমবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি। ফলে বিনিয়োগকারীরা এ মুহূর্তে নতুন করে বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছেন না।
তবে স্বস্তির খবর হলো, সার্বিক মন্দার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য পাঁচ বছর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার যে বিশেষ তহবিল দিয়েছিল, তার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। এই তহবিলের মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। শুধু মেয়াদ বৃদ্ধি নয়, তহবিলের আকার আরও ১০০ কোটি টাকা বাড়ানোরও অনুরোধ করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এ অনুরোধ রক্ষা করলে শেয়ার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অর্থ ফেরত দেওয়া থেকে রক্ষা পাবে ব্যাংকগুলো।
এদিকে জুনে আর্থিক হিসাব শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোরও লভ্যাংশ ঘোষণা আসতে শুরু করেছে। ব্যবসায় মন্দাবস্থার পরও এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ কোম্পানি আগের বছরের সমান বা কিছুটা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এটি কিছুটা হলেও বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপ কমাচ্ছে বলে মনে করছেন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার