ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার শেয়ারবাজারে চলতি বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন

ঢাকার শেয়ারবাজারে চলতি  বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সপ্তাহের শুরুতে বিশেষ কর্মদিবসে গতকাল শনিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩১৭ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গত বছরের ২৯ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। এর মানে চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে গতকাল। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা কারণে লেনদেন কমছিল। এর মধ্যে ডিএসইর ডিআর (ডিজেস্টার রিকভারি) ডেটা সেন্টার রাজধানীর নিকুঞ্জ থেকে কারওয়ানবাজারে হস্তান্তরের কারণে ৩০ থেকে ৩৫টি ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য মিলেছে। লেনদেন কমার এটা বড় কারণ।

জানা গেছে, বড়-ছোট বহু ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে লেনদেন সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কম-বেশি বিঘ্নিত হয়। এর মধ্যে আইসিবি, আইডিএলসি, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজসহ বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের নাম শোনা গেছে। এসব ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন আধাঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত লেনদেন বিঘ্নিত হয়।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, ডিআর সেন্টার চালুর আগে তিন দিন পরীক্ষামূলক লেনদেন হয়েছে। তখন সমস্যা হয়নি। তবে বাস্তব (লাইভ) লেনদেনের প্রথম দিনে অনেক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা হয়েছে। যদিও ডিএসইর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি।

এ বিষয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কী ঘটেছে, তা জানতে গতকাল সন্ধ্যায় ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ার বেশ কিছু অভিযোগ তারা পেয়েছেন। ঠিক কী কারণে সমস্যা হয়েছে, তা জানা নেই। তবে এটা ঠিক, গতকাল প্রথমবারের মতো ঢাকার কারওয়ানবাজারের একটি ভবনে স্থানান্তরিত ডিআর সেন্টার থেকে লেনদেন পরিচালনা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নিকুঞ্জের ডেটা সেন্টার থেকে লেনদেন হয়েছিল।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত রেজা সমকালকে বলেন, কারওয়ানবাজারে ডিএসইর ডিআর সেন্টার থেকে লেনদেন শুরুর দিনে অনেক ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেন বিঘ্নিত হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। কার কারণে সমস্যা হয়েছে, তা জানা নেই। তবে লংকাবাংলার লেনদেন বিঘ্নিত হয়নি।

সাফফাত রেজা বলেন, বড় ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে লেনদেন বিঘ্নিত হলে মোট লেনদেন কমবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এ সমস্যা সাময়িক। আদতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নানা সংকটে আগে থেকে লেনদেন কমছে। এর মধ্যে বাজারসংশ্লিষ্ট নানা কারণও আছে। নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আগের থেকে জোরালো হওয়ার পর থেকে লেনদেন কমছে বলে অনেকে বলছেন।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়াও দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো নয়। এক সমস্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আরেক সমস্যা হাজির হচ্ছে। এর বাইরে বাজারে নানা সমস্যা রয়েছে। প্রায়ই এর তাৎক্ষণিক কিছু সমাধান করা হয়। আদতে মূল সমস্যার স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি সুরাহা হয় না। ফলে বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা ক্রমশ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ২০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হওয়ার ইস্যুতেও একটি সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ এ তহবিলের আওতায় কয়েকটি ব্যাংক প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে। মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ ব্যাংককে অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংকগুলো শেয়ার বিক্রি করলে বাজারে বড় পতন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ছোট-বড় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। যদিও এমন পরিস্থিতি এড়াতে ব্রোকারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভনরের সঙ্গে কথা বলে এ স্কিমের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

শীর্ষ এক মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা দেখা যায়। বিনিয়োগকারীরা যখনই নেতিবাচক পরিস্থিতির খবর পান, তখন স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক অবস্থানে চলে যান। ঘন ঘন এমন পরিস্থিতি হতে থাকলে এক সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এর প্রভাবই বাজারে লেনদেন কমছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ১৬ আগস্ট ডিএসইতে সর্বশেষ একদিনে হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। গত ২ জুন থেকে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মোট ৫২ কর্মদিবসের মধ্যে ৪২ দিনই হাজার কোটি টাকার ওপর শেয়ার কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে ১২ জুলাই একদিনে ছিল ১ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকার বেশি। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে লেনদেন।
পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গতকালের ডিএসইর লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ১৮২ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের লেনদেন সর্বাধিক ৫৩ কোটি টাকা কমে ৮০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এর বাইরে প্রকৌশল খাতের লেনদেন সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা কমে ২৮ কোটি টাকার নিচে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন ২৬ কোটি টাকা কমে পৌনে ৩০ কোটি টাকায় নেমেছে।
সার্বিক লেনদেন কমার পাশাপাশি বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদরও কমেছে। লেনদেনযোগ্য ৩৫২ কোম্পানির মধ্যে ৮৯টির দর বেড়েছে, কমেছে ২১১টির। এদিন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া বাকি সব খাতের বেশির ভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে।

আরও পড়ুন

×