ড্যাফোডিলের সহযোগিতায় দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:২৪
বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর এবং ন্যায়বিচারে মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘ই-পারিবারিক আপিল আদালত ৩’ এবং নতুন ‘ই-পারিবারিক আদালত ১৪’।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ আদালতের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ বিচারক, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ রাশেদ হায়দার নূরী, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রিয়াদুজ্জামান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক মো. মেসবাউল ইসলাম জিয়ন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আইটি দল।
আইনমন্ত্রী বলেন, গত বছর আপনারা যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আমাদের বিচার বিভাগ সেই যাত্রাকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের নিরন্তর সহযোগিতা ছাড়া বিচার বিভাগের এই অগ্রযাত্রায় হয়তো আরও সময় লাগত। আপনারা এগিয়ে এসেছেন বলেই আমরা কাজটি শুরু করতে পেরেছি এবং সেই উদ্যোগকে আরও বিকশিত করতে পেরেছি। এ জন্য আপনাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।
তিনি ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। দেশের শিক্ষা অঙ্গনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি ড. মো. সবুর খানের সাফল্য কামনা করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু হয়েছে এবং জনগণ এ ব্যবস্থার সুফল পেতে শুরু করেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরার বিষয়ে আইন রয়েছে। এসব কার্যক্রম কীভাবে আরও বিস্তৃত পরিসরে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়, তা নিয়েও কাজ চলছে।
এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু হওয়ার পর গত বছর নভেম্বর থেকে ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট ৫ এবং ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট ১-এ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির তৈরি এই সিস্টেমটি সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বিচারিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।
কাগজবিহীন বিচারিক কার্যক্রম, মামলার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং বিচারপ্রার্থীদের সহজে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা করছে কর্তৃপক্ষ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি