ব্যবস্থাপনা
করোনা যুদ্ধে জয় যেভাবে সম্ভব
×
আমসাআ আমিন
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০ | ১২:১১
প্রধানমন্ত্রী নভেল করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সফলভাবে যুদ্ধ চালাতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন যুদ্ধ চালানোর উপযুক্ত সংগঠন। শান্তিকালীন মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠান দিয়ে তীব্রগতির করোনা বাগে আসবে না। নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়রের ভাষায়, 'করোনা চলছে বুলেটের গতিতে।' এ যুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে আমাদেরও এমন গতি সঞ্চার করতে হবে। চলতে হবে বুলেটের গতিতে; সবাইকে নিয়ে, প্রয়োজনে সুদক্ষ সামরিক নেতৃত্বে। মাঠ পর্যায়ে থাকবে নভেল করোনা যুদ্ধের পরিচালক ও করোনা যোদ্ধা। কেন্দ্রীয়ভাবে সরকার সরবরাহ করবে সব রসদ বা সরঞ্জাম এবং চালাবে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা।
১. প্রথম কথা হলো টোটাল ন্যাশনাল মোবিলাইজেশন :ছাত্র-যুবসমাজকে ডাকুন। অবসরপ্রাপ্তদেরও ডাকুন। সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে ডাকুন। মালিক-শ্রমিক সবাইকে এ যুদ্ধে শামিল করতে হবে; রাজনৈতিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-সংকোচ আপাতত শিকেয় তুলে রাখতে হবে। এ যুদ্ধ অবশ্যই সবার যুদ্ধ। ১৬-১৭ কোটি মানুষের এক বিশাল ও স্পর্শকাতর জনযুদ্ধ; করোনা নামে এক অজানা ও ভয়ানক শত্রুর বিরুদ্ধে। প্রত্যেক নাগরিক এ শত্রুর টার্গেট।
২. এখন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, অন্যান্য দল ও নাগরিক সমাজ সংগঠনের দক্ষ ও অভিজ্ঞদের নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নীতিনির্ধারণী পরামর্শ সভা ডাকতে পারেন। করোনা নির্মূলে সময়ে সময়ে সমস্যা বিশ্লেষণ, সমাধান-কৌশল নির্ধারণ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ, নীতি-কৌশল নবায়ন, পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ে এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। কঠিন এ সময় পাড়ি দিতে আসলেই যুদ্ধকালের মতো জাতীয় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস একান্ত দরকার।
৩. বাস্তব সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুতে প্রস্তাব :একটি জাতীয় বা সর্বদলীয় 'করোনা নির্মূল কাউন্সিল ও টাস্কফোর্স' (কনিক/ট) গঠন করুন। যে নামই দিন না কেন, সব পর্যায়ে বেশ ক'জন সেনা কর্মকর্তাও রাখুন এ কাউন্সিল ও টাস্কফোর্সে। এদেরকে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা বা ৭ দিনই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রোআ্যকটিভলি কাজ করতে হবে; সঠিক নীতি-কৌশল নিতে হবে; করোনার আগে চলতে হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব জেলায় শাখা গঠন করতে হবে। সিভিল প্রশাসন একা সব পারবে না। জাতীয় কাউন্সিলে পেশাগতভাবে দুর্নীতিমুক্ত, নৈতিক চরিত্রের বলিষ্ঠ ও সুদক্ষদের নিয়ে স্টাফিং করতে হবে। সাজসরঞ্জাম, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় বাজেট দিতে হবে।
৪. ফেসবুকে একটা লম্বা পোস্টে দেখলাম- করোনার জন্য নির্ধারিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অবস্থা করুণ। ভেতরে-বাইরে গাদাগাদি অবস্থা। সর্বত্র হাঁচি, কাশি, থুথু। ডাক্তার বা নার্সদের পিপিই নেই। রোগী বা অভিভাবক ফিরে যাচ্ছেন। নির্ধারিত অন্য হাসপাতালগুলোরও খোঁজ রাখা দরকার। আইইডিসিআরের আন্তরিকতা ও দক্ষতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। মানতেই হবে- আইইডিসিআর ভীষণ চাপে আছে। তবে অবহেলার অভিযোগ থাকলে তার দ্রুত ও গোপন তদন্ত এবং বিহিত করা দরকার।
৫. করোনা পরীক্ষা হচ্ছে ঢাকায়; মাত্র ৫-৬টি হাসপাতালে। চট্টগ্রাম ও কয়েকটি বিভাগীয় শহরেও ব্যবস্থা হচ্ছে। পরীক্ষা করাই হলো করোনা যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন। কিন্তু কিট বা ল্যাব সুবিধার ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করতে না পারলে যুদ্ধ চলবে কী করে? বড় সব জেলাতেই ব্যবস্থা করতে হবে। পিপিইতে আছে ১০ রকমের জিনিস- গাউন, হেড বা ফেস কাভার, গগলস, গ্লাভস ইত্যদি। এসবের পর্যাপ্ত সরবরাহে বহির্দেশীয় সহায়তা বা কেনাকাটার উদ্যোগ দরকার।
৬. সেনাবাহিনী বলছে, তারা ৩ ঘণ্টায় ৫০ বেডের ৫টি ফিল্ড হসপিটাল চালু করতে পারবেন। দরকার সব জেলাতেই ১টি; আপাতত সব বিভাগে হোক ১টি বা ২টি। সেনাবাহিনীর এ সামর্থ্য দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। বিদেশি সহায়তা ছাড়া তা হবে না। চীন ১০ দিনে ১০০০ বেড করতে পারে। তারা রাজি থাকলে সব জেলার খোলা মাঠে বা স্টেডিয়ামে ৫০-১০০টি বেডের ফিল্ড হাসপাতাল করা ও চালানো যায়। আর্মি মেডিকেল কোর ও অন্যান্য রেজিমেন্টের প্রচুর জনবল আছে।
৭. আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা সবাই বলছেন। শিল্প-কারখানার পুঁজি সংকট, ব্যাংকে লিকুইডিটির অভাব, বিনিয়োগশূন্যতা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সামাজিক নিরাপত্তার বাজেট নিয়ে টানাটানি তো আছেই। করোনা ও রোহিঙ্গা তার ওপর মারাত্মক বাড়তি চাপ। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি, চীন সরকারের সঙ্গে কথা শুরু হতে পারে। করোনা যুদ্ধ মুখে মুখে নয়; বাস্তবে সফল করতে হলে যুদ্ধের খরচ দ্রুত জোগাড় করতেই হবে।
৮. মাত্র ১০ দিন কোনো ছুটি নয়। করোনা কারফিউ দেওয়া হোক। রাস্তায় সেনাসদস্যরা থাকবেন। দু'জনের বেশি একসঙ্গে বের হলেই ১০-১৫ দিন শ্রীঘরে থাকতে হবে। জানাতে হবে- আপনাদের করোনা থেকে বাঁচানোর জন্যই এসব কড়াকড়ি ইত্যাদি।
মনে রাখা দরকার, আগামী দিনগুলোতেও তুঘলকি কাণ্ড ঘটে যেতে পারে। তাই দ্রুত 'কনিক/ট' গঠন ও সুনির্দিষ্ট দায়দায়িত্ব নির্ধারণ প্রয়োজন। দক্ষ, দায়িত্ববান, টেকনোক্র্যাট, অরাজনৈতিক ব্যক্তি- এমনকি সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বা বেসামরিক ডাক্তার বা নার্স ও কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগ করা যায়; যুদ্ধকালে যেভাবে করা হয়। এভাবেই সম্ভব হবে করোনা যুদ্ধে আমাদের বিজয় এবং জয়লাভ করতেই হবে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত
১. প্রথম কথা হলো টোটাল ন্যাশনাল মোবিলাইজেশন :ছাত্র-যুবসমাজকে ডাকুন। অবসরপ্রাপ্তদেরও ডাকুন। সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে ডাকুন। মালিক-শ্রমিক সবাইকে এ যুদ্ধে শামিল করতে হবে; রাজনৈতিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-সংকোচ আপাতত শিকেয় তুলে রাখতে হবে। এ যুদ্ধ অবশ্যই সবার যুদ্ধ। ১৬-১৭ কোটি মানুষের এক বিশাল ও স্পর্শকাতর জনযুদ্ধ; করোনা নামে এক অজানা ও ভয়ানক শত্রুর বিরুদ্ধে। প্রত্যেক নাগরিক এ শত্রুর টার্গেট।
২. এখন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, অন্যান্য দল ও নাগরিক সমাজ সংগঠনের দক্ষ ও অভিজ্ঞদের নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নীতিনির্ধারণী পরামর্শ সভা ডাকতে পারেন। করোনা নির্মূলে সময়ে সময়ে সমস্যা বিশ্লেষণ, সমাধান-কৌশল নির্ধারণ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ, নীতি-কৌশল নবায়ন, পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ে এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। কঠিন এ সময় পাড়ি দিতে আসলেই যুদ্ধকালের মতো জাতীয় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস একান্ত দরকার।
৩. বাস্তব সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুতে প্রস্তাব :একটি জাতীয় বা সর্বদলীয় 'করোনা নির্মূল কাউন্সিল ও টাস্কফোর্স' (কনিক/ট) গঠন করুন। যে নামই দিন না কেন, সব পর্যায়ে বেশ ক'জন সেনা কর্মকর্তাও রাখুন এ কাউন্সিল ও টাস্কফোর্সে। এদেরকে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা বা ৭ দিনই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রোআ্যকটিভলি কাজ করতে হবে; সঠিক নীতি-কৌশল নিতে হবে; করোনার আগে চলতে হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব জেলায় শাখা গঠন করতে হবে। সিভিল প্রশাসন একা সব পারবে না। জাতীয় কাউন্সিলে পেশাগতভাবে দুর্নীতিমুক্ত, নৈতিক চরিত্রের বলিষ্ঠ ও সুদক্ষদের নিয়ে স্টাফিং করতে হবে। সাজসরঞ্জাম, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় বাজেট দিতে হবে।
৪. ফেসবুকে একটা লম্বা পোস্টে দেখলাম- করোনার জন্য নির্ধারিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অবস্থা করুণ। ভেতরে-বাইরে গাদাগাদি অবস্থা। সর্বত্র হাঁচি, কাশি, থুথু। ডাক্তার বা নার্সদের পিপিই নেই। রোগী বা অভিভাবক ফিরে যাচ্ছেন। নির্ধারিত অন্য হাসপাতালগুলোরও খোঁজ রাখা দরকার। আইইডিসিআরের আন্তরিকতা ও দক্ষতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। মানতেই হবে- আইইডিসিআর ভীষণ চাপে আছে। তবে অবহেলার অভিযোগ থাকলে তার দ্রুত ও গোপন তদন্ত এবং বিহিত করা দরকার।
৫. করোনা পরীক্ষা হচ্ছে ঢাকায়; মাত্র ৫-৬টি হাসপাতালে। চট্টগ্রাম ও কয়েকটি বিভাগীয় শহরেও ব্যবস্থা হচ্ছে। পরীক্ষা করাই হলো করোনা যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন। কিন্তু কিট বা ল্যাব সুবিধার ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করতে না পারলে যুদ্ধ চলবে কী করে? বড় সব জেলাতেই ব্যবস্থা করতে হবে। পিপিইতে আছে ১০ রকমের জিনিস- গাউন, হেড বা ফেস কাভার, গগলস, গ্লাভস ইত্যদি। এসবের পর্যাপ্ত সরবরাহে বহির্দেশীয় সহায়তা বা কেনাকাটার উদ্যোগ দরকার।
৬. সেনাবাহিনী বলছে, তারা ৩ ঘণ্টায় ৫০ বেডের ৫টি ফিল্ড হসপিটাল চালু করতে পারবেন। দরকার সব জেলাতেই ১টি; আপাতত সব বিভাগে হোক ১টি বা ২টি। সেনাবাহিনীর এ সামর্থ্য দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। বিদেশি সহায়তা ছাড়া তা হবে না। চীন ১০ দিনে ১০০০ বেড করতে পারে। তারা রাজি থাকলে সব জেলার খোলা মাঠে বা স্টেডিয়ামে ৫০-১০০টি বেডের ফিল্ড হাসপাতাল করা ও চালানো যায়। আর্মি মেডিকেল কোর ও অন্যান্য রেজিমেন্টের প্রচুর জনবল আছে।
৭. আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা সবাই বলছেন। শিল্প-কারখানার পুঁজি সংকট, ব্যাংকে লিকুইডিটির অভাব, বিনিয়োগশূন্যতা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সামাজিক নিরাপত্তার বাজেট নিয়ে টানাটানি তো আছেই। করোনা ও রোহিঙ্গা তার ওপর মারাত্মক বাড়তি চাপ। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি, চীন সরকারের সঙ্গে কথা শুরু হতে পারে। করোনা যুদ্ধ মুখে মুখে নয়; বাস্তবে সফল করতে হলে যুদ্ধের খরচ দ্রুত জোগাড় করতেই হবে।
৮. মাত্র ১০ দিন কোনো ছুটি নয়। করোনা কারফিউ দেওয়া হোক। রাস্তায় সেনাসদস্যরা থাকবেন। দু'জনের বেশি একসঙ্গে বের হলেই ১০-১৫ দিন শ্রীঘরে থাকতে হবে। জানাতে হবে- আপনাদের করোনা থেকে বাঁচানোর জন্যই এসব কড়াকড়ি ইত্যাদি।
মনে রাখা দরকার, আগামী দিনগুলোতেও তুঘলকি কাণ্ড ঘটে যেতে পারে। তাই দ্রুত 'কনিক/ট' গঠন ও সুনির্দিষ্ট দায়দায়িত্ব নির্ধারণ প্রয়োজন। দক্ষ, দায়িত্ববান, টেকনোক্র্যাট, অরাজনৈতিক ব্যক্তি- এমনকি সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বা বেসামরিক ডাক্তার বা নার্স ও কর্মকর্তাদের পুনর্নিয়োগ করা যায়; যুদ্ধকালে যেভাবে করা হয়। এভাবেই সম্ভব হবে করোনা যুদ্ধে আমাদের বিজয় এবং জয়লাভ করতেই হবে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত
- বিষয় :
- করোনা
