প্রকল্পের সভাপতির ভাতিজাকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
খাল খনন প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাতে রাজি না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিকে না পেয়ে তাঁর ভাতিজাকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী খোরশেদ আলমকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের ফুলকারচর গ্রামে।
নির্যাতনের শিকার খোরশেদ আলম ফুলকারচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জিয়া খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব হোসেনের ভাতিজা। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম মনি স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর গ্রামের বাড়ির কেয়ারটেকার।
খোরশেদ আলমের অভিযোগ, গত বুধবার রাতে মনিসহ ১১ জনের একটি দল তাঁকে রাস্তা থেকে চোখ-মুখ বেঁধে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালায়। বিষয়টি জানাজানি হলে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে রাস্তার পাশে ঝোপে ফেলে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ইউনিয়নের কাটাখালী খাল পুনর্খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ফুলকারচর থেকে কড়ইতলা, আইড়মারী এবং চিনারচর নামাপাড়া এলাকার দশআনী নদী পর্যন্ত খালটির দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার খনন করার কথা। এতে দুই কোটি ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশ অর্থ ব্যয়ে ভেকু মেশিনে (খননযন্ত্র) এবং বাকি পঞ্চাশ শতাংশ অর্থ খনন কাজের শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ব্যয়ের কথা। গত ৩০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হয়।
খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, খাল খনন কাজে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুর গ্রামের বাড়ির কেয়ারটেকার মনি ৫-৭টি ভেকু ব্যবহার করেছেন। কর্মঘণ্টা ফাঁকি দিয়ে তিনি তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় মনি তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বুধবার রাতে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ভাতিজা খোরশেদকে ঝগড়ারচর বাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন চালায়।
কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। খাল খনন কাজে তিনি ভেকু ভাড়া দিয়েছেন। ভাড়ার টাকার জন্য প্রকল্পের সভাপতির ভাতিজা খোরশেদকে ডেকে এনেছিলেন। কিন্তু নির্যাতন করেননি।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনের সঙ্গে কথা বলতে গতকাল দুপুর ৩টার দিকে তাঁর অফিসে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোনে কল দিলেও রিসিভ করেননি।
সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, তাঁর কেয়ারটেকার মনির সঙ্গে লেনদেন নিয়ে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন। তবে প্রকল্প সভাপতির ভাতিজাকে নির্যাতনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
- বিষয় :
- নির্যাতন
