ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

বাজেটের চালডা গেল কোনে?

বাজেটের চালডা গেল কোনে?
×

কুমারখালী পৌরসভার নিচতলায় বৃহস্পতিবার বিক্রি করা হয় টিসিবির পণ্য সমকাল

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘কাল (বুধবার) লোকের বহুত চাপ ছিল বলে চলে গেছি। আজ (বৃহস্পতিবার) দেখছি চাল দিচ্ছে না। চাল তো আমাদের বাজেটে ছিল। সেই চালডা গেল কোনে? আমরা ভ্যানচালক। কষ্টের মধ্যেই থাকি। চালডা হলে তো একটা সপ্তাহ পার করতে পারতাম।’ কথাগুলো বলার সময় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফজল শেখ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এসেছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভা চত্বরে টিসিবির পণ্য কিনতে। তাঁর মতো সবাইকে কয়েকদিন ধরে চাল ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকার বাসিন্দা সরস্বতী সরকার তাদের একজন। তাঁর স্বামী নারায়ণ সরকার পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী। সরস্বতী জানালেন, এখানে ৫৭০ টাকায় ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক লিটার সয়াবিন তেল, একটি করে বিউটি সোপ ও একটি লন্ড্রি সোপ দেওয়ার কথা। কিন্তু ৩৯০ টাকায় ডাল, চিনি আর তেল দিয়েছেন ডিলার। অন্য পণ্য দেওয়া হয়নি তাঁকে। সরস্বতী সরকারও ক্ষোভে বলেন, ‘কালকে (বুধবার) সকাল ১১টার দিক লাইনে দাঁড়িয়ে (বিকেল) ৪টার দিক বললেন, মাল নাই। ফিরে গেছি। আজ আবার ২০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে আসলাম। কিন্তুই আসল মাল চালই দিলো না। লসই তো হলো। ৫ কেজি চাল পালি খাওয়া যাতোনে।’

কুমারখালী পৌরসভায় টিসিবির কার্ডধারী ব্যক্তির সংখ্যা ১৪৮১। বিপরীতে ডিলার আছেন চারজন। তাদের আবার বরাদ্দ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) চার ডিলার। বরাদ্দ অনুযায়ী মাসে প্রতিটি কার্ডে ৫ কেজি করে চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, ২ লিটার সয়াবিন তেল ও দুই ধরনের সাবান পাওয়ার কথা। গত বুধবার তিনজন ডিলার চালসহ অন্য পণ্য বিক্রি করেছেন। তবে অন্য ডিলার রোহান স্টোর থেকে পণ্য বিক্রি না করে আরিফুল ট্রেডার্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আরিফুল ট্রেডার্স বুধবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার পণ্য বিক্রি করলেও দেননি চাল ও দুই পদের সাবান। এতে সরকারের এমন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অন্তত ৩৭১ ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের নিচতলার বারান্দায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করছিলেন মেসার্স আরিফুল ট্রেডার্সের প্রতিনিধি আতিক হাসান। তাঁর ভাষ্য, রোহান ট্রেডার্সের মালিক অসুস্থ। হঠাৎ তাদের পণ্য বিক্রির দায়িত্ব দেওয়ায় সময়মতো ডিও করা যায়নি। আবার ওএমএস ডিলার মিরাজ হোসেন চালের ডিও করেননি। সেজন্য চাল ও সাবান ছাড়াই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। চালের জন্য সুবিধাভোগীরা তর্কাতর্কি করছেন।

এলংগী কুড়ালপাড়ার শহিদুল ইসলাম এ সময় বলেন, ‘গতকালকে ঠেলে ঠেলে চাল, ডাল, তেল, গায়েমাখা সাবান, কাপড় কাচা পাউডার নিয়ে গিছি। কিন্তু সাবান আর পাউডার খুবই নিম্নমানের। সেই কথা বলতে আজ আবার আইছি।’ তবে তিনি সাবান ও পাউডার কোন কোম্পানির, তা জানাতে পারেননি। এলংগী এলাকার গৃহবধূ বিলকিস খাতুন বলেন, ‘সরকার মাসে একবার যাই দিক চালডাই কাজে লাগে। কিন্তু সেই চালই ডিলার দিচ্ছে না। সামনে যেন আগে চাল দেয় সেই ব্যবস্থা করেন।’
ওএমএস চালের ডিলার মো. মিরাজ হোসেনের মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অফিস থেকে চালের ডিও করার কথা বলা হয়নি। সেজন্য চালও তোলা হয়নি। খবর পেলে অবশ্যই চাল তুলতাম। কয়ডা পয়সা তো ব্যবসা হতো!’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোসা. ফাতেমাতুজ জহরার দেওয়া তথ্যমতে, পৌরসভায় ওএমএস চালের ডিলার চারজন। তারাই টিসিবির ডিলারকে চাল দেন। কিন্তু একজন ডিলার 
সময়মতো ডিও না করায় এক হাজার ৮৫৫ কেজি চাল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। ওই ডিলারকে ডিও করতে বলা হয়েছিল।
তবে এসব তথ্য জানা নেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতারের। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।
 

আরও পড়ুন

×