ঠিকাদারকে নয়, প্রধান শিক্ষককে শোকজ
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেরপুরের গাংনীতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। উল্টো বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের ২৯ মার্চ গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়। কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষীরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন।
গত বুধবার পৌর শহরের বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে শিক্ষা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সুশীলনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠে। কিন্তু বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিম পচা ও পাউরুটিতে ছত্রাক পাওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, তারা এ প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা খাদ্যের মান নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত বুধবারের ঘটনায় এ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সখ্য থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আব্দুর রহিম নামের এক অভিভাবক বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া দুঃখজনক। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়মে উৎসাহিত হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন একজন শিক্ষককে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হচ্ছে?
সুশীলনের এরিয়া ম্যানেজার সুমন আলী বলেন, কোনো বিদ্যালয়ে পচা ডিম বা পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ পেলে সেগুলো বদলে দেন। বাঁশবাড়িয়া বিদ্যালয়ে সমস্যার কথা শুনে ডিম-রুটি পরিবর্তন করেন। ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকবেন। তবে কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের মাসোহারা না দিলে ঠিকাদারদের বিল নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। তাদের খুশি করতে গিয়েই খাবারের মানে আপস করেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ বিষয়ে বাঁশবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘চোর ধরা বড় অপরাধ হয়েছে। তাই শোকজ খেয়েছি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে শোকজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে– এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রধান শিক্ষককে শোকজের বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, বিষয়টির সমাধান করে দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- শোকজ
