রমজান মাস
বাজার স্থিতিশীল রাখতেই হবে
×
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০০
অন্যান্য বছরের সঙ্গে যদি তুলনা করি, করোনা পরিস্থিতির কারণে রমজানের বাজারে ক্রেতার সংখ্যা এবার স্বভাবতই অনেক কম। অনুমান করা কঠিন নয় যে- নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষ যেমন ত্রাণের ওপর নির্ভর করছে বা সামান্য সঞ্চয় ভেঙে সীমিত বাজার করছে, তেমনই মধ্যবিত্ত কাটছাঁট করেছে তার রোজার বাজেটে। ওদিকে আমদানিকারকরা কয়েক মাস আগে থেকেই রোজার বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে রেখেছিলেন। সমকালেই আমরা এক প্রতিবেদনে দেখেছিলাম, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড় করে আছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজ। সরবরাহ পর্যাপ্ত অথচ চাহিদা সীমিত- এমন পরিস্থিতিতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নাম যৌক্তিক থাকাই সঙ্গত ছিল। বাজারের ধ্রুপদি নিয়ম ছাড়াও করোনাকালে সবাই যখন সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তখন আমদানিকারকরাও অতি মুনাফার চিন্তা করবেন না, এমন প্রত্যাশাও অসঙ্গত ছিল না। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি- পরিস্থিতির বরং সুযোগ নিতে চাইছে একশ্রেণির আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ী। সোমবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আদার মতো পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি খরচের পাঁচ গুণ বেশি দাম গুনতে হচ্ছে খুচরা ক্রেতাদের। অন্যান্য আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি তথৈবচ।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও বাজারের এমন চিত্র দেখে আমরা বিক্ষুবব্ধ নিশ্চয়ই, কিন্তু বিস্মিত নই। চোরে যে ধর্মের কাহিনী শোনো না, অতীতে অনেকবারই প্রমাণ হয়েছে। বিশেষত বাজারের ক্ষেত্রে প্রতিবছর রমজানেই একশ্রেণির অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ক্রেতার পকেট কাটার অপচেষ্টা চালায়। যে কারণে রমজান মাস শুরুর আগেই এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে আমরা বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলাম। বলেছিলাম যে, করোনা পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসতে পারে। ফলে দুই-এক রোজা না যেতেই আমাদের আশঙ্কা যে বাস্তবে পরিণত হয়েছে, তাতেও আমরা বিস্মিত নই। আমাদের বিস্মিত করেছে আলোচ্য প্রতিবেদনের এই ভাষ্য- 'জরিমানায়ও থামছে না অসৎ ব্যবসায়ীরা'। একবার জরিমানায় কাজ না হওয়ায় রোববার রাজধানীর শ্যামবাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষে আবারও জরিমানা এবং দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এই জরিমানা অসৎ ব্যবসায়ীদের যদিও প্রাপ্য ছিল, প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া কতটা সঙ্গত হয়েছে ভেবে দেখতে বলি আমরা। কারণ এই নাজুক সময়ে সরবরাহ লাইনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। প্রয়োজনে আরও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হোক, অতি মুনাফার লোভ ত্যাগ না করা পর্যন্ত বারংবার জরিমানা করা হোক; কিন্তু গুদাম বা প্রতিষ্ঠান জব্দ করা উচিত হবে না।
আমরা আগেও বলেছিলাম- বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে আমদানি পণ্যের পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ লাইনও নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। কর্তৃপক্ষ যদিও পণ্য পরিবহন লকডাউনের আওতামুক্ত রেখেছে, মহাসড়কে অনেক স্থানেই বাধার মুখে পড়ছে পণ্যবাহী ট্রাক। ফলে উৎপাদনকেন্দ্র থেকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছতে বিলম্ব হচ্ছে। এ ধরনের বিলম্ব কাঁচা কৃষি পণ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে অনেক জেলায় লকডাউন থাকায় কৃষকের খেত থেকে উৎপাদনকেন্দ্র পর্যন্ত কাঁচা পণ্যগুলো পৌঁছতে পারছে না। এর ফলে একদিকে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনকারী কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাজার থেকে স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যবস্থাপনাও নজরদারির আওতায় আনা দরকার। বস্তুত একদিকে আমদানি পণ্য অন্যদিকে দেশজ উৎপাদিত পণ্য- দুই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেরই সরবরাহ লাইন নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘ্ন রাখা ছাড়া বাজারে স্থিতিশীলতা আশা করা যায় না। একইসঙ্গে বাজারে বাজারে নজরদারি থাকতেই হবে। অতি মুনাফার অপচেষ্টা যেই করুক না কেন, তাকে জরিমানা করতে হবে।
আমরা দেখতে চাইব, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পণ্যের অতিরিক্ত দামের নেপথ্যে অনেক সময় ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি পরোক্ষ ভূমিকা রাখে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজর রাখতে হবে সেদিকেও। স্বীকার করতে হবে, গোটা দেশ যখন করোনা ভাইরাস বিস্তার ও সংক্রমণ রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন বাজার নিয়ে আলাদা মনোযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু ভুলে যাওয়া চলবে না, অস্থিতিশীল বাজার করোনা মোকাবিলার লড়াই আরও কঠিন করে তুলতে পারে। একটি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থ-সামাজিক সংকট মোকাবিলা বরং হতে পারে সহজ। বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে হবে যে কোনো মূল্যেই।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও বাজারের এমন চিত্র দেখে আমরা বিক্ষুবব্ধ নিশ্চয়ই, কিন্তু বিস্মিত নই। চোরে যে ধর্মের কাহিনী শোনো না, অতীতে অনেকবারই প্রমাণ হয়েছে। বিশেষত বাজারের ক্ষেত্রে প্রতিবছর রমজানেই একশ্রেণির অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ক্রেতার পকেট কাটার অপচেষ্টা চালায়। যে কারণে রমজান মাস শুরুর আগেই এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে আমরা বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলাম। বলেছিলাম যে, করোনা পরিস্থিতিতে বাজার ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসতে পারে। ফলে দুই-এক রোজা না যেতেই আমাদের আশঙ্কা যে বাস্তবে পরিণত হয়েছে, তাতেও আমরা বিস্মিত নই। আমাদের বিস্মিত করেছে আলোচ্য প্রতিবেদনের এই ভাষ্য- 'জরিমানায়ও থামছে না অসৎ ব্যবসায়ীরা'। একবার জরিমানায় কাজ না হওয়ায় রোববার রাজধানীর শ্যামবাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষে আবারও জরিমানা এবং দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এই জরিমানা অসৎ ব্যবসায়ীদের যদিও প্রাপ্য ছিল, প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া কতটা সঙ্গত হয়েছে ভেবে দেখতে বলি আমরা। কারণ এই নাজুক সময়ে সরবরাহ লাইনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। প্রয়োজনে আরও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হোক, অতি মুনাফার লোভ ত্যাগ না করা পর্যন্ত বারংবার জরিমানা করা হোক; কিন্তু গুদাম বা প্রতিষ্ঠান জব্দ করা উচিত হবে না।
আমরা আগেও বলেছিলাম- বাজার স্থিতিশীল রাখতে হলে আমদানি পণ্যের পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ লাইনও নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। কর্তৃপক্ষ যদিও পণ্য পরিবহন লকডাউনের আওতামুক্ত রেখেছে, মহাসড়কে অনেক স্থানেই বাধার মুখে পড়ছে পণ্যবাহী ট্রাক। ফলে উৎপাদনকেন্দ্র থেকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছতে বিলম্ব হচ্ছে। এ ধরনের বিলম্ব কাঁচা কৃষি পণ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে অনেক জেলায় লকডাউন থাকায় কৃষকের খেত থেকে উৎপাদনকেন্দ্র পর্যন্ত কাঁচা পণ্যগুলো পৌঁছতে পারছে না। এর ফলে একদিকে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনকারী কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাজার থেকে স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যবস্থাপনাও নজরদারির আওতায় আনা দরকার। বস্তুত একদিকে আমদানি পণ্য অন্যদিকে দেশজ উৎপাদিত পণ্য- দুই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেরই সরবরাহ লাইন নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘ্ন রাখা ছাড়া বাজারে স্থিতিশীলতা আশা করা যায় না। একইসঙ্গে বাজারে বাজারে নজরদারি থাকতেই হবে। অতি মুনাফার অপচেষ্টা যেই করুক না কেন, তাকে জরিমানা করতে হবে।
আমরা দেখতে চাইব, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পণ্যের অতিরিক্ত দামের নেপথ্যে অনেক সময় ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি পরোক্ষ ভূমিকা রাখে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজর রাখতে হবে সেদিকেও। স্বীকার করতে হবে, গোটা দেশ যখন করোনা ভাইরাস বিস্তার ও সংক্রমণ রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন বাজার নিয়ে আলাদা মনোযোগ পাওয়া কঠিন। কিন্তু ভুলে যাওয়া চলবে না, অস্থিতিশীল বাজার করোনা মোকাবিলার লড়াই আরও কঠিন করে তুলতে পারে। একটি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থ-সামাজিক সংকট মোকাবিলা বরং হতে পারে সহজ। বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে হবে যে কোনো মূল্যেই।
- বিষয় :
- রমজান