ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন

করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনা সংক্রমণের কারণে চলমান লকডাউনে অধিকাংশ মানুষ যখন ঘরে অবস্থান করছে, তখনও ঘরে থাকা মানুষের স্বার্থেই কর্মস্থলে থেকে সেবা দিচ্ছেন সাংবাদিক, পুলিশ ও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ তিন পেশার কর্মীরা যখন বাইরে থাকেন কিংবা কাজের প্রয়োজনে করোনা পজিটিভ মানুষের কাছাকাছি যান, তখন সাবধান থাকার পরও আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। সে কারণেই আমরা দেখছি করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এই তিন পেশাজীবীর আধিক্য রয়েছে। যাদের আমরা করোনাযোদ্ধা বলে থাকি। বৃহস্পতিবারের সমকালে সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যদের চিত্র উঠে এসেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকন না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তারই সহকর্মী মাহমুদুল হাকিম অপুর আকস্মিক মৃত্যুও করোনার কারণে হতে পারে। তারা উভয়েই দৈনিক সময়ের আলোতে কাজ করতেন। ষাটের অধিক সংবাদকর্মীর করোনায় আক্রান্ত হওয়া ও দু'জনের চলে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। একই সঙ্গে প্রায় বারশ' পুলিশের আক্রান্ত হওয়া ও ছয়জনের মৃত্যু এবং প্রায় এক হাজার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর আক্রান্ত হওয়া ও দু'জন চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমরা মনে করি, করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষায় আরও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানসম্মত পিপিই নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ঘাটতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও তাদের পরিবারের প্রতি প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া দরকার। আমরা দেখেছি, করোনায় আক্রান্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাংকারদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্যও এমন প্রণোদনা জরুরি। আমরা জানি, করোনাযোদ্ধা প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে গিয়েই আক্রান্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে অন্য পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলে সাংবাদিকদের জন্য থাকবে না কেন? এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, সংবাদকর্মীরা এ দুর্যোগে কেবল ঘরে থাকা মানুষের জন্যই সংবাদ পরিবেশ করছেন না বরং প্রতিনিয়ত এমন অনেক খবর তারা দিচ্ছেন, যেগুলো রাষ্ট্রের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যম না থাকলে গুজব ও ভুয়া সংবাদে করোনা মোকাবিলার লড়াই হুমকির মুখে পড়তে পারে। এমনকি দেশ পরিচালানার কাজও হয়ে উঠতে পারে কঠিন।

ফলে নিরলসভাবে যারা সংবাদ পরিবেশন করছে তাদের পাশে দাঁড়াতেই হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের সম্মুখযোদ্ধা পুলিশদের কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে মানুষের ঘর পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া ও তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও বিক্ষুব্ধ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে তারা যখন মানুষের কাছে যান, সবসময় নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন না বলে পুলিশের করোনা সংক্রমণের হার বেশি। আর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তো সরাসরি করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা দিয়ে থাকেন বলে তাদের সংক্রমণের হারও কম নয়।

সাংবাদিক, পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা সংক্রমণের বিষয়টি বেশি উদ্বেগের এ কারণে যে, তারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ের সেবার সঙ্গে যুক্ত। তারা অধিক পরিমাণে আক্রান্ত হলে সেবা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটবে। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে হাসপাতালে বা হাসপাতালের বিশেষ ইউনিটে ও পুলিশের কোনো কোনো থানায় করোনা সংক্রমণের কারণে সেবা প্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তাই সেবার প্রয়োজনেই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা চাই। সুরক্ষার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যেমন সচেতন থাকবেন, একই সঙ্গে করোনাযোদ্ধারা নিজেরাও ব্যক্তিগতভাবে আরও সচেতন হবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

আরও পড়ুন

×