ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ব্যক্তিগত সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধিই ভরসা

ব্যক্তিগত সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধিই ভরসা
×

ফাইল ছবি

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই রমজানে যেভাবে শপিংমল খুলে দেওয়া হয়, যেভাবে চলমান সাধারণ ছুটির সঙ্গে ঈদুল ফিতরের ছুটি নির্ধারণ করা হয়, তাতে এটি অনুমিতই ছিল যে, হয়তো সাধারণ ছুটির মেয়াদ আর বাড়ছে না। বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। আর বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা আদেশে আমরা দেখছি- সীমিত পরিসরে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সাধারণ ছুটির মেয়াদ না বাড়িয়ে শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থায় খোলা রাখার কথা বলা হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগসহ নানা মাধ্যমে অনেকে সমালোচনা করলেও অর্থনীতি সচল রাখার প্রয়োজনে এর বিকল্প কী?
আমরা দেখেছি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার থেকে সুরক্ষায় ২৬ মার্চ থেকে কয়েক দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এখন প্রশাসনের তরফ থেকে 'শর্তসাপেক্ষে' ও 'সীমিত পরিসরে'র কথা বলা হয়েছে সত্য, এসব শর্ত মানার দায়িত্ব সবার। মনে রাখা দরকার, করোনার ঝুঁকি এখনও শেষ হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবেই, এখনও প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে গড়ে বিশজন করে মানুষ মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় সবকিছু খুলে দিলে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়বে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ফলে করোনার এ ঝুঁকি কমাতে প্রত্যেককেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
করোনা থেকে সুরক্ষায় ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানেরও করণীয় রয়েছে। যারা অফিস-আদালত, কল-কারখানায় যাবেন তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সর্বাগ্রে সুরক্ষিত হওয়া চাই। নির্দেশনায় সীমিত পরিসরে গণপরিবহনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু করোনা বিবেচনায় আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক। এ অবস্থায় আমরা চাই, প্রতিষ্ঠান নিজস্ব যানবহন দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করবে। একান্ত কাউকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। প্রত্যেকে যাতে মাস্ক ব্যবহার করে ও যথাযথ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলে, সেদিকে নজর রাখা চাই। কর্মস্থলে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুরুতেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিংবা সাবান দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। সহকর্মীদের বসার আয়োজনেও দূরত্ব রক্ষা করতে হবে।
আমরা দেখেছি, করোনাদুর্যোগে লকডাউনে থাকা কর্মহীন মানুষ ত্রাণসামগ্রী ও সাহায্যের জন্য কীভাবে বেরিয়ে আসছিল। লকডাউনের প্রভাবে কীভাবে অর্থনীতি ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বাড়তি দুর্যোগ হিসেবে যোগ হয়েছে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও মৌসুমি ঝড়। ঈদের আগে থেকেই এর জেরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এখনও জেরবার। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীসহ নানা পক্ষ থেকেই সাধারণ ছুটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এসব বিবেচনায় নিয়েই সরকার দৃশ্যত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খানিকটা স্বস্তির বিষয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংক্রমণ কমার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
প্রশাসনের তরফ থেকে যেসব সতর্কতা ও শর্তের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে মানা হচ্ছে কি-না সেটি তদারকির ব্যবস্থাপনা থাকা চাই। কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেক্ষেত্রেও নির্দেশনা প্রয়োজন। তবে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে ব্যক্তি নিজেকেই। প্রত্যেকে সতর্ক হলে, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নিজের সুরক্ষা যেমন হবে, তেমনি আরেকজনও নিরাপদ হবে। করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিস্কার না হওয়া পর্যন্ত এ সতর্কতা বজায় রাখার বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন

×