জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ জলে?
×
ছবি: ফাইল
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২০ | ১২:০০
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা-সমালোচনা, কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব, কমিটি গঠন আর শত শত কোটি টাকার অর্থ ব্যয়- সবই জলে গেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি; জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাননি নগরবাসী। যার প্রমাণ আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি, সোমবার ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে গেছে অনেক এলাকা। পরদিনও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। প্রধান সড়কগুলোয় পানির ঢেউ খেলে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন নাগরিকরা। একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকা মহানগরে জলজটের চিরচেনা সেই দৃশ্য যেন ফিরে এসেছে। ফলে ঢাকার দুই সিটি মেয়রের সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর রাজধানীর জলাবদ্ধতা পরিদর্শনের চিত্র বৃহস্পতিবারের সমকালে এসেছে।
আমরা জানি, মেট্রোরেলসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেহাল বলে এবার জলাবদ্ধতার মাত্রা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় যে সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে এ ভোগান্তি জিইয়ে রেখেছে, তা হলো ড্রেনের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। পানি নিস্কাশনের প্রধান মাধ্যম ড্রেন নিয়ে রশি টানাটানি চলছে সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাপক সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। ঢাকার দুই হাজারের অধিক কিলোমিটার পানি নিস্কাশন নেটওয়ার্কের মধ্যে ওয়াসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩৬০ কিলোমিটার নিস্কাশন লাইন দেখভালের দায়িত্বে আছে। আর তারা গত এক দশকে জলাবদ্ধতা দূর করতে অর্ধশতাধিক কোটি টাকা খরচ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সুফল রাজধানীবাসী পাননি বললেই চলে। সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে, সিটি করপোরেশনের অভিযোগ- ওয়াসা বক্স-কালভার্ট ও স্টর্ম স্যুয়ারেজ পরিস্কার করে না, পরিস্কারের নামে প্রকৌশলী ও ঠিকাদার টাকা-পয়সা লুটেপুটে খায়। আবার ওয়াসাও বলছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন উন্মুক্ত ড্রেনগুলো পরিস্কার রাখে না। আমাদের মনে আছে, পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগ নিয়ে কয়েক বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ও ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও হয়েছিল। এ ঘটনায় সে সময় একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্ব ছিল সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার আইন পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করা। সেই কমিটি দীর্ঘদিনেও কোনো সুপারিশ জমা দিতে পারেনি। ওয়াসাও স্টর্ম স্যুয়ারেজ ও বক্স-কালভার্ট পরিস্কার থেকে বিরত রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদী হওয়ার কোনো অবস্থা আমরা দেখছি না।
আমরা মনে করি, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বড় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার যৌথ প্রকল্প নেওয়া দরকার। সবচেয়ে ভালো হয়, পানি নিস্কাশন ব্যবস্থাকে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে দেওয়া। তাতে অন্তত সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করতে পারবে না। একই সঙ্গে কাজের জবাবদিহির ক্ষেত্রেও কেবল তারাই দায়ী থাকবে।
এবার ঢাকার পরিস্থিতি যেহেতু ভিন্ন- একদিকে চলছে কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ, অন্যদিকে ধেয়ে আসছে বন্যা তার ওপর রয়েছে করোনাদুর্যোগ, তাই সংশ্নিষ্ট সব দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। ইতোমধ্যে এ বছর রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে কিছু কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। ফলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছেই। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সমাধান হওয়া অসম্ভব। এ জন্য টেকসই সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নিতেই হবে। এক্ষেত্রে রাজধানীর খালগুলো উদ্ধার ও সচল করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে নগর সরকার গঠনের বিষয়টিও ভাবা দরকার। উন্নত বিশ্বে সিটি গভর্নমেন্ট বা নগর সরকার চালু থাকার কারণেই আমরা দেখেছি, সব সেবা প্রতিষ্ঠান তাদের অধীনে থাকায় নাগরিকরা এর সুফল পাচ্ছেন। ঢাকায় বিভিন্ন সেবা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকায় যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, নগর সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এসব সমস্যার সহজে সুরাহা হবে না।
আমরা জানি, মেট্রোরেলসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেহাল বলে এবার জলাবদ্ধতার মাত্রা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় যে সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে এ ভোগান্তি জিইয়ে রেখেছে, তা হলো ড্রেনের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। পানি নিস্কাশনের প্রধান মাধ্যম ড্রেন নিয়ে রশি টানাটানি চলছে সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাপক সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। ঢাকার দুই হাজারের অধিক কিলোমিটার পানি নিস্কাশন নেটওয়ার্কের মধ্যে ওয়াসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩৬০ কিলোমিটার নিস্কাশন লাইন দেখভালের দায়িত্বে আছে। আর তারা গত এক দশকে জলাবদ্ধতা দূর করতে অর্ধশতাধিক কোটি টাকা খরচ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সুফল রাজধানীবাসী পাননি বললেই চলে। সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে, সিটি করপোরেশনের অভিযোগ- ওয়াসা বক্স-কালভার্ট ও স্টর্ম স্যুয়ারেজ পরিস্কার করে না, পরিস্কারের নামে প্রকৌশলী ও ঠিকাদার টাকা-পয়সা লুটেপুটে খায়। আবার ওয়াসাও বলছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন উন্মুক্ত ড্রেনগুলো পরিস্কার রাখে না। আমাদের মনে আছে, পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগ নিয়ে কয়েক বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ও ঢাকা ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও হয়েছিল। এ ঘটনায় সে সময় একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্ব ছিল সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার আইন পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করা। সেই কমিটি দীর্ঘদিনেও কোনো সুপারিশ জমা দিতে পারেনি। ওয়াসাও স্টর্ম স্যুয়ারেজ ও বক্স-কালভার্ট পরিস্কার থেকে বিরত রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদী হওয়ার কোনো অবস্থা আমরা দেখছি না।
আমরা মনে করি, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বড় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার যৌথ প্রকল্প নেওয়া দরকার। সবচেয়ে ভালো হয়, পানি নিস্কাশন ব্যবস্থাকে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে দেওয়া। তাতে অন্তত সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করতে পারবে না। একই সঙ্গে কাজের জবাবদিহির ক্ষেত্রেও কেবল তারাই দায়ী থাকবে।
এবার ঢাকার পরিস্থিতি যেহেতু ভিন্ন- একদিকে চলছে কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ, অন্যদিকে ধেয়ে আসছে বন্যা তার ওপর রয়েছে করোনাদুর্যোগ, তাই সংশ্নিষ্ট সব দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। ইতোমধ্যে এ বছর রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে কিছু কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। ফলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছেই। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সমাধান হওয়া অসম্ভব। এ জন্য টেকসই সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নিতেই হবে। এক্ষেত্রে রাজধানীর খালগুলো উদ্ধার ও সচল করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে নগর সরকার গঠনের বিষয়টিও ভাবা দরকার। উন্নত বিশ্বে সিটি গভর্নমেন্ট বা নগর সরকার চালু থাকার কারণেই আমরা দেখেছি, সব সেবা প্রতিষ্ঠান তাদের অধীনে থাকায় নাগরিকরা এর সুফল পাচ্ছেন। ঢাকায় বিভিন্ন সেবা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকায় যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, নগর সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এসব সমস্যার সহজে সুরাহা হবে না।
- বিষয় :
- জলাবদ্ধতা